20.1 C
Rangpur City
Wednesday, February 8, 2023

শুধু হাসপাতাল বন্ধ নয়, চিকিৎসকদেরও বিচার চান মাইশার মা-বাবা

-- বিজ্ঞাপন --

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে আঙুলের অপারেশন করাতে গিয়ে মারা যায় কুড়িগ্রামের পাঁচ বছরের শিশু মারুফা জাহান মাইশা। অনিবন্ধিত হওয়ায় তদন্ত শেষে হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে শুধু হাসপাতাল বন্ধ নয়, অপারেশনে জড়িত চিকিৎসকদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন মাইশার মা-বাবা।

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে আলম মেমোরিয়াল হাসপাতাল বন্ধের খবরের প্রতিক্রিয়ায় এই দাবি জানান মাইশার মা বেবি আক্তার ও বাবা মোজাফফর আলী। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভেলাকোপা ব্যাপারী পাড়া গ্রামে। 

-- বিজ্ঞাপন --

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর আলম মেমোরিয়াল হাসপাতালে হাতের আঙুল অপারেশন করার সময় মাইশার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ কুড়িগ্রামে নিয়ে দাফনের আগে গোসলের সময় তলপেট কেটে সেলাই দেওয়া দেখতে পান স্বজনরা। এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মাইশার ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে অপারেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা, স্বজন ও এলাকাবাসীসহ নেটিজেনরা।

যা বলছেন মাইশার মা-বাবা

-- বিজ্ঞাপন --

মেয়ের মৃত্যুর চার দিন পর হাসপাতাল বন্ধের খবরে মোটেও স্বান্তনা পাচ্ছেন না মাইশার দিনমজুর বাবা মোজাফফর ও মা বেলি আক্তার। হাসপাতাল বন্ধ কোনও বিচার নয় দাবি করে মোজাফফর বলেন, ‘হাসপাতাল বন্ধ করলেই হবে না, আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, সেই চিকিৎসকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমার মেয়েকে তো আর ফিরে পাবো না। আমার মেয়ের জীবন গেছে, আর কোনও বাবা-মায়ের সন্তানদের জীবন যেন এমন কসাইদের হাতে না যায়। আর কোনও বাবা-মাকে যেন এভাবে সন্তান হারা হওয়া না লাগে। আমার নিষ্পাপ মেয়ের মতো আর কোনও মেয়ে যেন ওদের অপারেশন টেবিলে জীবন না দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। ওই ডাক্তার (ডা. আহসান কবীর) আমার বাসায় সমঝোতার জন্য তার এক বন্ধুকে পাঠাইছে। আমাদের টাকা দিয়ে বিষয়টা আপসের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলছি, মেয়ের জীবন বিক্রি করতে পারবো না। আমরা টাকা চাই না, বিচার চাই। আমার মেয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতনি, সে যেন বিচার পায়।’

-- বিজ্ঞাপন --

প্রথম সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে রয়েছেন বেলি আক্তার। নাড়িছেড়া ধন হারিয়ে পাঁচ দিন ধরে কাঁদতে কাঁদতে গলার স্বর ভেঙে ফেলেছেন। তার একটাই দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিচার। 

মাইশাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে দাবি করে বেলি আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ের হাতের আঙুল অপারেশন করতে গিয়ে তারা পেট কাটলো কেন? তারা পেট থেকে কিছু বের করে নিয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করা হোক। এভাবে আমার মেয়ের জীবন নেওয়ার জন্য আমি ওদের বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল বন্ধ করে কী হবে! কয়েকদিন পর আবার ওখানে অন্য কোনও মায়ের বুক খালি হবে। হাসপাতাল বন্ধের সাথে সাথে অপারেশনে জড়িত সবার শাস্তি চাচ্ছি। সরকারের কাছে আমার এটাই মিনতি।’

মাইশার মৃত্যু নিয়ে বিচারের দাবি ওঠার পর তার কাছে চিকিৎসক ডা. আহসান হাবীবের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে বেলি আক্তার বলেন, ‘গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আমার কাছে একজন এসে বিষয়টা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আপসের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, আপস করলে আমাদের বেশকিছু টাকা দেবেন। ওই ডাক্তারদের নাকি কিছুই হবে না। এর চেয়ে আপস করলেই ভালো হবে। কিন্তু আমি ও আমার স্বামীসহ আমাদের স্বজনরা তাকে না বলে দিয়েছি। আমরা মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।’

‘আমার সোনামনিটার পেট এতদূর কেন কাটছে এটা আমার জানতে হবে। এই জবাবটা আমাকে কেউ নিয়া দেন।’ আঙুল অপারেশনে শিশু মাইশার পেটের বিশাল অংশ কেটে সেলাইয়ের কারণ জানতে এমন আকুতি মা বেলি আক্তারের।

মাইশার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে এবং এমন মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তার বিচার চাইতে আইনি সহায়তা চান মোজাফফর ও বেলি আক্তার। এ ঘটনায় তারা আজ-কালের মধ্যে মামলা করবেন বলেও জানান।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,600FollowersFollow
874SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles