25 C
Rangpur City
Sunday, February 5, 2023

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রওশনপন্থী নেতার মনোনয়ন সংগ্রহ, দ্বন্দ্ব আরও তুঙ্গে

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা চূড়ান্ত হয়েছেন অনেক আগেই। কদিন আগে জিএম কাদের-মজিবুল হক চুন্নু মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোস্তফা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু এবার জিএম কাদেরের সঙ্গে চলমান বিরোধে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছেন রওশন-রাঙ্গাপন্থী নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিক।

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের প্রার্থী দাবি করে রসিক নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাবেক পৌর মেয়র ও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান একেএম আব্দুর রউফ মানিক। মঙ্গলবার ( ২২ নভেম্বর) সকালে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে আব্দুর রউফ মানিকের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সোহেল আহমেদ লিটন।

-- বিজ্ঞাপন --

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে সোহেল আহমেদ লিটন বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছেন একেএম আব্দুর রউফ মানিক। তার পক্ষে আমরা আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। সিটি নির্বাচনে দলের লাঙ্গল প্রতীক নিয়েই মানিক নির্বাচন করবেন।

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিকের মনোনয়ন সংগ্রহ করাকে ঘিরে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। একই দলের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ করায় ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দেবর-ভাবির দ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠলে লাঙ্গলের ঘাঁটিতেই ঘটবে জাতীয় পার্টির চরম বিপর্যয়।

-- বিজ্ঞাপন --

এদিকে গত ১৫ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের পক্ষে দলের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগরের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই লাঙ্গল প্রতীক পাবেন বলে জানান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের একটি প্রজ্ঞাপন হয়, সেই প্রজ্ঞাপনে কারা কারা মনোনয়ন দিতে পারবেন সেটা স্পষ্ট লেখা আছে। আর মহাসচিবের ওপর তো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নাই। তাছাড়া মনোনয়নের ক্ষমতাবান লোক কে হবেন, সেটা চেয়ারম্যান সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন। যেহেতু দলের গঠনতন্ত্রে বলা আছে মহাসচিব মনোনয়ন দিতে পারবেন, তাই এ নিয়ে নতুন করে ভাববার কিছু নেই। প্রতীক কারও ব্যক্তিগত নামেও না, এটা পার্টির নামে। এ কারণে আমি প্রতীক নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছি না।

-- বিজ্ঞাপন --

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্টপোষক রওশন এরশাদ। দলের গঠনতন্ত্রে পৃষ্ঠপোষকের ক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট বলা রয়েছে। দলের কোনো প্রয়োজনে হলে তিনি সহযোগিতা করবেন বা পরামর্শ দেবেন। রওশন এরশাদের নির্বাহী কোনো ক্ষমতা নেই। রংপুর সিটিতে জাতীয় পার্টি থেকে এখন আর অন্য কারো প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।

এদিকে সোমবার (২১ নভেম্বর) রংপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেই প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক পাবেন তিনিই মেয়র নির্বাচিত হবেন। জাতীয় পার্টি মানেই লাঙ্গল। আর লাঙ্গল যার কাছে থাকবে, সেই হবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। দলের মহাসচিব রংপুরে যাকে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন, সেটা কোনো দিনও বৈধ হবে না। কারণ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই।

তিনি বলেন, মহাসচিব অযাচিতভাবে মোস্তফাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। চেয়ারম্যান এখন আইনি সমস্যার কারণে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। তবে এই সমস্যাও থাকবে না। দ্রুত দেবর-ভাবির দ্বন্দের অবসান ঘটবে। সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের সঙ্গে বর্ধিত এলাকার (সাবেক সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে) আরও ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এরপর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু প্রথম নগরপিতা হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর ভোটার রয়েছেন চার লাখেরও বেশি। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হন।

এবার তৃতীয় বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে দিন ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ১৭ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ করা হবে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,601FollowersFollow
868SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles