20.1 C
Rangpur City
Tuesday, January 31, 2023

অহেতুক জাতীয় পার্টিকে চাপে রাখার অপচেষ্টা চলছে : মেয়র মোস্তফা

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত হলেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রাজনৈতিক ও দলীয় কার্যক্রমের ওপর আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় নতুন জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এনিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দিন যতই গড়াচ্ছে ততই যেন জিএম কাদেরের সঙ্গে রওশন-রাঙ্গাপন্থিদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রংপুর সিটির ভোটের সমীকরণ জটিলতার দিকে যাচ্ছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে প্রার্থী ও প্রতীক নিয়ে ভোটাররা রয়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে।

-- বিজ্ঞাপন --

তবে রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলছেন, একটা বিক্ষুদ্ধ পক্ষ জাতীয় পার্টিকে অহেতুক চাপে রাখার একটা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এটা কতদূর পর্যন্ত গড়াবে, এখনই তা বলা যাচ্ছে না। 

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মহাসচিব রওশন এরশাদপন্থি নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গার দাবি, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল চেয়ারম্যানের। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় তিনি সমর্থন দিতে পারলেও মনোনয়ন দিতে পারবেন না।

-- বিজ্ঞাপন --

শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টির নতুন সমীকরণ নিয়ে কথা হয় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে। প্রায় ১০ মিনিটের আলাপচারিতায় তিনি জিএম কাদেরের ওপর আদালত থেকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এবং রসিক নির্বাচনে নিয়ে ইভিএম নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা জানান।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‌‌‌‌জিএম কাদেরের রাজনৈতিক ও দলীয় কার্যক্রমের প্রতি আদালতের নিষেধাজ্ঞা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। একটি পক্ষ ন্যাক্কারজনক হস্তক্ষেপ করছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো দলের প্রধান বা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। এমন একটা ঘটনাও নেই। কিন্তু আমাদের একটা বিক্ষুদ্ধ পক্ষ জাতীয় পার্টিকে অহেতুক চাপে রাখার একটা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এটা কতদূর পর্যন্ত গড়াবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

-- বিজ্ঞাপন --

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত দল এবং এর গঠনতন্ত্র রয়েছে। কাউন্সিল হওয়ার পর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা সেই গঠনতন্ত্রকে অনুমোদন দেন। তারপর আর গঠনতন্ত্র নিয়ে অভিযোগ তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু অহেতুক জাতীয় পার্টিকে একটা চাপে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে আমি মনে করি।

আইন নিজস্ব গতিতে চলছে না অভিযোগ তুলে রসিকের বর্তমান এই মেয়র বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জিএম কাদের সাহেবকে আইনি লড়াই করতে হচ্ছে। এটা কতদূর যাবে সেটা বিষয় নয়। কিন্তু সব চাইতে বড় বিষয় হচ্ছে এখন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে না। এটা আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্য। এ কারণে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এ নিয়ে মন্তব্য করাও ঠিক হবে না।

জিএম কাদেরের ওপর দেওয়া রাজনৈতিক নিধেষাজ্ঞা রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং দলে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সরকার কখন কী করবে, এটা তাদের ব্যাপার। আমার দিক থেকে নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ থেকে শুরু করে সঠিক প্রক্রিয়ায় যা যা করা দরকার তার সবই করেছি। তারপরও যদি এখানে অন্য কিছু করা হয়, সেটা করতে পারবে।

রংপুর অঞ্চলে সংরক্ষিত ইভিএমগুলোর ত্রুটি ও সিটির ভোটে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যবহৃত ও পরিত্যাক্ত কিছু এভিএম মেরামত করার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে নির্বাচন অফিস।  এসব নষ্ট ইভিএম মেরামত করে এনে ভোটগ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। যদি এসব ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়, তাতে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে আমি এখন বলতে পারছি না। তবে এটা আশঙ্কা করছি, অনেক ভোটকেন্দ্র ইভিএম নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবে। ইভিএম কাজ না করলে ভোটগ্রহণও বন্ধ হতে পারে। দেখবেন ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে ইভিএম নিয়ে আসা হবে, এমন নানা কাহিনী হতে পারে।

ইভিএম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার মতো জায়গা নেই দাবি করে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, কিছু দিন আগে জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়ে গেল। আমিও ভোটার হিসেবে ইভিএমে ভোট দিয়েছি। আমার মতো যদি একজন জনপ্রতিনিধির ভোট দিতে ইভিএমে তিন-চার মিনিট সময় লাগে, তাহলে সাধারণ ভোটারের ক্ষেত্রে কী হবে, কতক্ষণ সময় লাগতে পারে। আর গ্রামের মহিলা ভোটারদের কথাও চিন্তা করতে হবে। সব মিলিয়ে ইভিএম নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিতে সবসময় কিছু সুবিধাবাদী লোক ছিল, এখনো রয়েছে। যাদের নিজ নির্বাচনী এলাকায় জামানত বাঁচানোর মতো অবস্থা নেই, তারা সরাসরি সরকারের দালালি করছে। তারা এককভাবে কোনো দিনও নির্বাচিত হতে পারবে না। এখন দালালি করে সরকারের আস্থাভাজন হয়ে বা মহাজোটের প্রার্থী হয়ে তারা বৈতরণি পার হওয়ার সুযোগ খুঁজছে। মসিউর রহমান রাঙ্গা তাদের একজন। উনি রংপুর-১ আসনে (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) নির্বাচন করলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এ কারণে এখন উনি সরকারের দালালি করে নিজের বাঁচার পথ খুঁজছেন।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের একটি প্রজ্ঞাপন হয়, সেই প্রজ্ঞাপনে কারা কারা মনোনয়ন দিতে পারবেন সেটা স্পষ্ট লেখা আছে। আর মহাসচিবের ওপর তো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নাই। তা ছাড়া মনোনয়নের ক্ষমতাবান লোক কে হবেন, সেটা চেয়ারম্যান সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন জমা দিয়েছেন। যেহেতু দলের গঠনতন্ত্রে বলা আছে মহাসচিব মনোনয়ন দিতে পারবেন, তাই এ নিয়ে নতুন করে ভাববার কিছু নাই। প্রতীক কারও ব্যক্তিগত নামেও না, এটা পার্টির নামে। এ কারণে আমি প্রতীক নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছি না।

দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক নিয়ে যদি কোনো জটিলতা তৈরি হয়, এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকার পরও যদি কোনো কারণে আমাকে প্রতীক না দেওয়া হয়, তাতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ আমার যদি জনগণের সাথে সম্পর্ক থাকে তাহলে প্রতীকটা কোনো ব্যাপার নয়।

মোস্তাফিজার রহমান আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্টপোষক রওশন এরশাদ। দলের গঠনতন্ত্রে পৃষ্টপোষকের ক্ষমতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট বলা রয়েছে। দলের কোনো প্রয়োজনে হলে তিনি সহযোগিতা করবেন বা পরামর্শ দেবেন। রওশন এরশাদের নির্বাহী কোনো ক্ষমতা নেই। রংপুর সিটিতে জাতীয় পার্টি থেকে এখন আর অন্য কারো প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও এখন তো অনেক কিছুই হয়, এ কারণে সব কিছু দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে রওশনপন্থি নেতা ও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল চেয়ারম্যানের। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞায় তিনি সমর্থন দিতে পারলেও মনোনয়ন দিতে পারবেন না। এ কারণে মোস্তফা জাতীয় পার্টির বৈধ প্রার্থী হতে পারবেন না। মনোনয়ন বাতিল হবে, মোস্তফা অবৈধ প্রার্থী হবেন। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ তার নেই।

তিনি আরও বলেন, রওশন এরশাদের চলতি সপ্তাহে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। উনি দেশে ফিরে এলে রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নতুন প্রার্থী দেওয়া হবে। তাছাড়া দলের প্রতীক লাঙ্গলও কিন্তু রওশন এরশাদের নামে বরাদ্দ রয়েছে। এ কারণে মোস্তফার  বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মাসুদুল হক জিএম কাদেরের দলীয় ও রাজনৈতিক কার্মকাণ্ডের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আর ১৬ নভেম্বর শুনানির দিনে আগের আদেশ বহাল রাখেন আদালত। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়। গত ৮ নভেম্বর এই মামলার আরজি খারিজের আবেদন করেছেন জিএম কাদেরের আইনজীবী। সেটার ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর।

অন্যদিকে রংপুর সিটির করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টিতে দেবর-ভাবির দ্বন্দ্বে রংপুরে দুই প্রার্থী থাকবে কিনা, দলের দুইজন প্রার্থী হলে বৈধ হবেন কিনা, আবার ক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণ হবে কিনা, এসব নিয়ে এখন সবখানে চলছে বহুমাত্রিক আলোচনা।

প্রসঙ্গত, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের সঙ্গে বর্ধিত এলাকার (সাবেক সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে) আরও ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। এরপর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু প্রথম নগরপিতা হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর ভোটার রয়েছেন চার লাখেরও বেশি। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। এতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হন।

এবার তৃতীয় বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরের দিন ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ১৭ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এক টানা ভোটগ্রহণ করা হবে। 

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,602FollowersFollow
854SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles