20.1 C
Rangpur City
Wednesday, February 8, 2023

নদী খননের কাজ শুরু হওয়ায় কোটি টাকার আলু নষ্টের শঙ্কা

-- বিজ্ঞাপন --

কয়েকদিন পরই ক্ষেত থেকে আগাম জাতের আলু তুলবেন কৃষকরা। কিন্তু সে আলু ওঠার আগেই নদী খনন কার্যক্রম চলায় নষ্ট হচ্ছে আলু ক্ষেত। ইতোমধ্যে কয়েক একর জমির আলুর ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, বাকি যা আছে তাও নষ্টের পথে। এ অবস্থায় ফসল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

এ নিয়ে গত ১৫ নভেম্বর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর, উলিপুর ও খাড়িপাড়ার শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

অভিযোগে কৃষকরা উল্লেখ করেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাশে জমিতে বিভিন্ন চাষাবাদ করে আসছি। সে ধারাবাহিকতায় আগাম আলু চাষ করেছি। কয়েকদিন পরই আলু তোলা যেতো। এরই মধ্যে পুনর্ভবা নদীতে খনন শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। ইতোমধ্যে কয়েকজন কৃষকের আলু ক্ষেত খুঁড়ে ফেলেছে তারা। এভাবে খুঁড়তে থাকলে ৫০০ বিঘা জমির আলু নষ্ট হবে। তাই আমাদের এক মাসের সময় দেওয়া হোক। না হয় অপূরণীয় ক্ষতি হবে আমাদের।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়। নদীর খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিআইডব্লিউটিএ। নদীর ৩৩ কিলোমিটার খনন করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬০ টাকা। পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ করছে।

-- বিজ্ঞাপন --

সরেজমিনে দেখা গেছে, উলিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পুনর্ভবা নদীর চরে আলুর আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু আলু ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর খনন কার্যক্রমে আলু ক্ষেতের ক্ষতি হচ্ছে। এতে দিশেহারা কৃষকরা। খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। 

ওই এলাকার কৃষক মোকছেদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন পরই আলু উঠবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারজাত করা যেতো। কিন্তু নদী খননের ফলে এখন আমাদের মাথায় হাত। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, কয়েকদিন সময় দেওয়া হোক। কিন্তু আমাদের কোনও কথা শোনেননি সংশ্লিষ্টরা।’

-- বিজ্ঞাপন --

নুর বানু বলেন, ‘এই জমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এখন নদী খননকারীরা জানিয়েছেন এটি নাকি সরকারি জমি। আমাদের জমি সরকারি হলো কীভাবে? আলু ক্ষেত নষ্ট করায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।’ 

কৃষক আমজাদ আলী বলেন, ‘এভাবে ক্ষতি না করে আমাদের সময় দিলে উপকার হতো। খনন তো অন্য স্থানে করা যেতো, পরে না হয় এদিকে করতো। কিন্তু এখন তো আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো।’

কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঋণ নিয়ে আলুর আবাদ করেছি। এখন ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। জমি খনন করবে তা আগেই আমাদের মাইকিং করতে জানাতে পারতো। সরকারি জমি হলে ছেড়ে দেবো, কিন্তু আমাদের আলুর ক্ষতি কে দেবে এখন?’

কৃষক আরিফ আহমেদ, ‘এখানে যেসব ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছে তার মধ্যে আমার রেকর্ডভুক্ত জমি আছে। এখন খনন কার্যক্রমে নিয়োজিতরা বলছেন এগুলো সরকারের জমি। আমার কাছে আমার জমির সব কাগজপত্র আছে। কিন্তু যারা খনন করছেন তারা কোনও কাগজপত্র না দেখিয়ে খনন করছেন।’

তরুণ উদ্যোক্তা মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‌‌‘এক সপ্তাহ পরই আগাম আলু তুলতে পারতেন কৃষকরা। সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহ সময় দিলেই এসব ক্ষেতের আলু উঠে যেতো। তখন নদী খনন করলে ক্ষতি হতো না। বরং কৃষকরা লাভবান হতেন। কিন্তু এ সময়ে খনন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেন কৃষকরা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত নদীর খননকাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছি। সেখানে যদি কারও নিজস্ব জমি থাকে তাহলে কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যবস্থা নেবো।’

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,600FollowersFollow
874SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles