20.1 C
Rangpur City
Tuesday, January 31, 2023

নীলফামারিতে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

-- বিজ্ঞাপন --

নীলফামারিতে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বিজিবি সদস্য আক্তারুজ্জামানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই মামলাটি পিবিআই প্রধানকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

-- বিজ্ঞাপন --

আদালতে কিশোরীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বদরুন নাহার ও মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে, গত ১৫ জুন সকালে ওই কিশোরী তার মাকে সঙ্গে নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আসেন। এ সময় ওই কিশোরী আদালতের এজলাস কক্ষের ডায়াসের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।

-- বিজ্ঞাপন --

আদালত জানতে চান, কে আপনারা? কি চান? জবাবে ওই কিশোরী নিজের নাম ও পরিচয় জানিয়ে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি তার মা বলে আদালতকে জানায়।

কিশোরী বলে, ‘আমার বয়স ১৫ বছর। আমি ধর্ষণের শিকার। একজন বিজিবি সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) তাকে খালাস দিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, আমাদের টাকা পয়সা নেই। আমরা আপনার কাছে বিচার চাই।’

-- বিজ্ঞাপন --

এরপর আদালত ওই কিশোরীর কাছে জানতে চান, তার কাছে মামলা সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র আছে কিনা? তখন কিশোরী মামলার কাগজ আছে বলে আদালতকে জানায়। এ সময় আদালতে উপস্থিত সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের আইনজীবী বদরুন নাহারকে মামলাটির দেখভাল করতে বলেন।

জানা গেছে, নীলফামারী সৈয়দপুর উপজেলার এক ভ্যানচালকের সন্তান ওই ভুক্তভোগী কিশোরী। কিশোরীকে নিয়ে বিজিবি সদস্য আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২১ নভেম্বর মামলা করেন কিশোরীর মা। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর বিকালে সৈয়দপুর শহরের সাজেদা ক্লিনিকে জন্ম নেওয়া বোনের নবজাতককে দেখানোর কথা বলে বিজিবি সদস্য আক্তারুজ্জামান তার প্রতিবেশি বাড়ির কিশোরীকে (ধর্ষণের শিকার কিশোরী) কাউকে কিছু না জানিয়ে মোটরসাইকেলে করে শহরে নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলে দুজনের শহরের দিকে যাওয়ার বিষয়টি দেখে তাদের ডাক দেওয়া হলেও সাড়া কোনও মেলেনি। এরপর সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরীর বড় বোন তাদের মাকে জানায়, আক্তারুজ্জামানের বোন তাকে জানিয়েছে (ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে) তার ছোটো মেয়ে আজ ফিরবে না। পরদিন সকাল ৮টায় আক্তারুজ্জামানের বোন ভুক্তভোগী কিশোরীর জন্য জামা নিতে তাদের বাড়িতে আসে। মাংসের ঝোল লাগায় আগের দিন পড়ে থাকা জামা ধুয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আক্তারুজ্জামানের বোন কিশোরীর ঘর থেকে তার আরেকটি জামা নিয়ে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে আক্তারুজ্জামান মোটরসাইকেলে করে ভুক্তভোগী কিশোরীকে তার বাড়িতে রেখে যায়।

এরপর ওই কিশোরী ভুলভাল বকতে থাকায় পরদিন ১১ নভেম্বর স্থানীয় হুজুরের কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। এতেও সে সুস্থ না হওয়ায় ১২ নভেম্বর সকালে নীলফামারীর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওইদিনই তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের ছাড়পত্রে ‘যৌন নিপীড়নের’ কথা উল্লেখ করা হয়। পরে এই ঘটনায় কিশোরীর মা একই বছরের ২১ নভেম্বর মামলা দায়ের করেন।

তবে তদন্তের পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হলে নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ মে আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। এরপরই ওই কিশোরী বিচার চেয়ে হাইকোর্টে আসেন।

এরপর গত ২৬ জুন ধর্ষণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বিজিবি সদস্যের বিচার চেয়ে হাইকোর্টের এজলাসের সামনে দাঁড়ানো সেই কিশোরীর পক্ষে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বদরুন নাহার এ আপিল দায়ের করেন।

পরে গত ২৯ জুন ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় অব্যাহতি পাওয়া বিজিবি সদস্য মো. আকতারুজ্জামানকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনারের আদেশের কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন আদালত।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,602FollowersFollow
854SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles