20.1 C
Rangpur City
Wednesday, February 8, 2023

গাইবান্ধায় চালের বরাদ্দ কমে অর্ধেক, ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে

-- বিজ্ঞাপন --

‘ভোর থিকা কম দামত তিন কেজি চাল কিনার লাগি লাইনত দাঁড়ে আছোম। যাগরে চিনা-জানা আছে, তারা চাল আটা নিয়া যাচ্ছে। অখন বারোটা বাজে, তা-ও মুই চাল পাইনি। প্যাটোত খিদা না লাগলে মুই লাইনত দাড়ানোনু না হয়।’

কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা শহরের সুখশান্তির মোড় এলাকার বিধবা আমেনা বেওয়া (৭০)।  তাঁর মতো অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন এই স্বল্প মূল্যের চাল-আটা কেনার জন্য। তাঁদের অনেকেই চাল-আটা না পেয়ে ক্ষুধা নিয়েই ফেরেন বাড়ি।

-- বিজ্ঞাপন --

তবে ডিলাররা বলছেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তাই বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা বরাদ্দ ছাড়া বেশি মাল দেবে কীভাবে? যতক্ষণ থাকে আমরা ততক্ষণ দিই। কে পাবে আর কে পাবে না, এগুলো আমাদের দেখার বিষয় নয়।’

গাইবান্ধা জেলা খাদ্য অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে প্রতিদিন ওএমএসের ডিলার প্রতি দুই টন করে চাল বা আটা বরাদ্দ দেওয়া হতো। গত ১৬ অক্টোবর থেকে বরাদ্দ কমিয়ে এক টন করা হয়েছে। এসব চাল-আটা সপ্তাহের দুই দিন ১১ জন ডিলার ও ৯ জন ডিলার সপ্তাহের ছয় দিন ওএমএসের ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

-- বিজ্ঞাপন --

গত সোমবার সরেজমিনে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন ওএমএস পয়েন্টে দেখা গেছে, ওএমএসের পণ্য কিনতে স্বল্প আয়ের মানুষের লম্বা লাইন। পণ্য শেষ হওয়ায় ডিলার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ক্রেতারা পণ্য না পেয়ে বাইরে হাহাকার করছেন। পরপর কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাচ্ছেন না বলে এমন অভিযোগ করছেন অনেকে।

এ সময় কথা হয় শহরের ডিবি রোড এলাকার ওএমএসের ডিলারের দোকানের লাইনে দাঁড়ানো গৃহপরিচারিকা ছালেদা বেগমের (৬০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ। সংসারে এক প্রতিবন্ধীসহ পাঁচজন খানেআলা। এটি থাকি কম দামে চাল-আটা পালে কিছু পয়সা বাঁচে। তয় মাঝে-মধ্যেই চাল না পেয়ে খালি হাতে ঘুরে যাওয়া লাগে।’

-- বিজ্ঞাপন --

গত বুধবার পৌর শহরের কলেজ রোডের ওএমএসের ডিলার গোলাম রহমান বলেন, ‘চাল কিনতে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক লোক আসে। কিন্তু আমার বরাদ্দ এক টন, যা দিয়ে ২০০ জন লোককে দেওয়া যায়। তাই আমাদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়।’

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক বলেন, ‘বরাদ্দ বাড়ানো ক্ষমতা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নেই। শুরুতে দুই টন করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। গত ১৬ অক্টোবর থেকে বরাদ্দ কমিয়ে এক টন করা হয়েছে। এ কারণেই এখন দুপুরের মধ্যেই পণ্য শেষ হয়ে যায়।’

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,600FollowersFollow
874SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles