20.8 C
Rangpur City
Monday, February 6, 2023

ধর্ষণের অভিযোগ করা নারীসহ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

-- বিজ্ঞাপন --

ধর্ষণের অভিযোগ এনে করা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগকারী নারী ও তার সহযোগী সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সাবেক এক ইউপি সদস্য। সেই মামলায় ওই নারী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

সোমবার (২১ নভেম্বর) কুড়িগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

এর আগে, ২০১৭ সালে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন বল্লভেরখাস ইউনিয়নের মিলি বেগম নামে এক নারী ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাহাতাব উদ্দিন এবং আজিবর রহমান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ডাক্তারি প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ ৪৮ মাস শেষে ২০২২ সালের মার্চ মাসে আদালত অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুই অভিযুক্তকে মামলা হতে অব্যাহতি দেন। 

পরে চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী সাবেক ইউপি সদস্য মাহতাব উদ্দিন বাদী হয়ে মিলি বেগম এবং মামলায় মিলিকে সহায়তা করা একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৭ (১) ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন।

-- বিজ্ঞাপন --

সাবেক ইউপি সদস্য মাহাতাব উদ্দিন মিলি বেগম ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) নির্দেশ দেন। ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আসামিরা আগাম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে গেলে আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে সোমবার আসামিরা কুড়িগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী সাবেক ইউপি সদস্য মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘আকমল হোসেন চেয়ারম্যান থাকাকালে তার দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছিলাম। এজন্য তিনি আমার ও আমার  নির্বাচনি কর্মীর বিরুদ্ধে মিলি বেগমকে দিয়ে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করান। আমরা কোনও অপরাধ না করেও তাদের মামলার কারণে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে একই আদালতে একই আইনে মামলা করেছি।’

-- বিজ্ঞাপন --

বাদী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, নারীদের সুরক্ষার জন্যই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু ওই আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মমলা করলে, অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। মিলি বেগম ও আকমল চেয়ারম্যান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করেছেন, যা একই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। 

বাদী পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসানের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব নীলু। আর আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,600FollowersFollow
869SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles