20.8 C
Rangpur City
Monday, February 6, 2023

বিদ্যালয়ের মাঠে বসে কলাপাতায় দুপুরের খাবার খায় ওরা

-- বিজ্ঞাপন --

ঘড়ির কাটায় তখন দুপুর ১টা ৩০ মিনিট। বিরতির ঘণ্টা বেজে উঠল এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে হই-হুল্লোড় করে দৌড়ে স্কুলমাঠে ছুটে আসে খুদে শিক্ষার্থীরা। তাদের পেছন পেছন কলার পাতা হাতে নিয়ে মাঠে আসেন কয়েকজন শিক্ষক। এরপর খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয় সেই পাতা। কিছুক্ষণ পরে কলাপাতা সামনে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইনে বসে পড়ে শিক্ষার্থীরা। শুরু করা হয় কলার পাতায় দুপুরের খাবার দেওয়া।

গতকাল শনিবার দুপুরে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার তারবাগান গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সরকারি সহায়তা ছাড়াই গত তিন বছর ধরে এভাবেই ‘মিড ডে মিল’ চালু রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি দুপুরের খাবার পেয়ে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

-- বিজ্ঞাপন --

জানা গেছে, ১৯৯২ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন চারজন। আগে প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত থাকত ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থী। তাই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে তিন বছর আগে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এ উদ্যোগ নেন।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে, ‘প্রতিদিন সকালে আমরা বাসা থেকে মুড়ি, চিড়া খেয়ে স্কুলে আসি। দুপুরে স্যারেরা বিস্কুট, পাউরুটি, কলা, ডিমসহ নানা রকম পুষ্টিকর খাবার দেয়। এ সব খাইলে ক্ষিধা থাকে না। এ ছাড়া মাসে দুদিন খিচুড়ি ও ভাত দেয়।’

-- বিজ্ঞাপন --

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে, ‘ক্লাস শেষে টিফিনের সময় আমরা সবাই এক সঙ্গে বিদ্যালয়ে খাবার খাই। একই কলার পাতায় একসঙ্গে একই ধরনের খাবার খেতে আমাদের বেশ ভালো লাগে।’

এ বিষয়ে শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, আগে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী স্কুলে ঠিকমতো আসত না। আবার এলেও দুপুরের পর থাকত না। স্কুলে দুপুরের খাবার কার্যক্রম চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে নিয়মিত থাকছে। এখন উপস্থিত প্রায় ৯৮ শতাংশ।

-- বিজ্ঞাপন --

বানেসা খাতুন নামে আরেক শিক্ষিকা বলেন, এ কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে শিশুরা দল বেঁধে প্রতিদিন স্কুলে আসছে।

শ্রীমতি রানী ও বাসেদ বর্মণ নামে দুই অভিভাবক বলেন, ‘অনেক সময় আমরা বাড়ি থেকে চাল ও সবজি বিদ্যালয়ে নিয়ে যাই। বিদ্যালয়ে রান্নার জন্য নির্ধারিত বাবুর্চিকেও সহযোগিতা করি। আমাদের সন্তানরা দুপুরে বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত খাবার খেতে পারে। এতে তাদের মন যেমন ভালো থাকে এবং লেখাপড়াও ভালো হয়।’

বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নসহ ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘উপজেলার তারবাগান দারিদ্র্য প্রবণ এলাকা। এখানকার অধিকাংশ মানুষজনই খেটে খাওয়া মানুষ। অভাব-অনটনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে খুব একটা হাজির হতো না। বিষয়টি আমাকে ভাবনায় ফেলে। পরে নিজেই বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেই। আমার এ কাজে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।’

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মুনছুর রহমান বলেন, তারবাগান গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়ে যে মিড ডে মিল চালু রয়েছে তা একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। অন্য বিদ্যালয়েও এমন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া এক সঙ্গে এভাবে খাবার খাওয়ার ফলে শিশুরা ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা শিখছে। এতে শিশুর পুষ্টিহীনতা, সুস্বাস্থ্য বেড়ে ওঠার পাশাপাশি তাদের মধ্যে মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ছে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,600FollowersFollow
869SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles