1. firojinfo2017@gmail.com : drbadmin :
  2. istiyakshajib@gmail.com : Istiyak Shajib : Istiyak Shajib
  3. jfjoy24@gmail.com : J F Joy : J F Joy
  4. obaisskhan@gmail.com : murshid :
  5. shariermim@gmail.com : Sharier Mim : Sharier Mim
  6. tanbirnews@gmail.com : Tanvir Hossain : Tanvir Hossain
সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

Rangpur press

দীর্ঘদিনের আক্ষেপের পর দৃশ্যমান হচ্ছে মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশ কাল: শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ১১৩৯ বার পঠিত

রংপুরে মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়র ভাস্কর্য উন্মোচনের দাবি ঘুচতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আক্ষেপের ইতি টেনে ডিসেম্বরেই দৃশ্যমান হচ্ছে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য। মার্বেল পাথর আর কংক্রিটে তৈরি এই ভাস্কর্যের উন্মোচন হলে পূর্ণ হবে এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। আরো সমৃদ্ধ হবে ভাস্কর্য ম্যুরালের নগরখ্যাত রংপুর।

বেগম রোকেয়া দিবসের আগেই ভাস্কর্যের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর অনীক রেজা। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকদের সাথে দেখা যায় ভাস্করের শৈল্পিক ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। পাথর-কংক্রিটের ভিতর থেকে তারা বের করে আনছে আলোকিত রোকেয়াকে। শিক্ষার আলোয় নারীদের মুক্তির পক্ষে বই হাতে দেখা যাবে দাঁড়িয়ে থাকা রোকেয়াকে। এই ভাস্কর্যের নামকরণ করা হয়েছে ‘‘আলোকবর্তিকা’’। রংপুর নগরের শালবন ইন্দ্রার মোড়ে বিগত সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর আমলে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হয়েছিল।

এরপর ধীরগতিতে চলা নির্মাণ কাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। মাটি থেকে শুধু উঁচু বেদি তৈরির পরে কয়েকটি ইটের পিলার ছাড়া তখন আর কিছুই ছিল না সেখানে। অযন্ত অবহেলায় পড়ে থাকা বেদিটি ভরে ছিল ধুলোবালি আর বিভিন্ন ফেস্টুন পোস্টারে। মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা সেই বেদিটি দেখে হতাশ হয়েছিল স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন মহল থেকে তখন ওই ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ দ্রত সম্পন্ন করার দাবি জোরালো হয়ে উঠে। অবশেষে বছর তিনেক বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে নির্মাণ কাজ। যা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, “আলোকবর্তিকা” ভাস্কর্যটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটির উচ্চতা মাটি থেকে ২০ ফিট।

এরমধ্যে শুধু পাথর-কংক্রিট থেকে বেরিয়ে আসা রোকেয়ার প্রতিকৃতি লম্বায় প্রায় ১২ ফিট। আর বেদির চারদিক জুড়ে পঞ্চাশ স্কয়ার ফিট। পাথরের ভিতর থেকে সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষার শক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসা রোকেয়ার এই ভাস্কর্যটিতে জন্ম-মৃত্যু সন উল্লেখসহ তাঁর লেখা কিছু বই ও বাণী রয়েছে। যার মধ্যে অবরোধবাসিনী, মতিচুর, সুলতানাস ড্রিমসহ কিছু বইয়ের পাথররূপ নজর কাড়বে। স্থানীয়রা বলছেন, ভাস্কর্যটি উন্মোচন হলে বর্তমান প্রজন্ম রোকেয়া সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবে। আর ছোটদের কাছে মহিয়সী বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতি চেনা হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, তখন রোকেয়াকে জানা, তাঁর লেখা বই ও বাণী জানাটা অনেকের জন্য সহজ হবে। সবমিলিয়ে এই ভাস্কর্য উন্মোচনের মধ্যে দিয়ে রংপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য আরো সমৃদ্ধ হবে। শালবন এলাকার আবাসিক একটি ছাত্রীনিবাসে থাকা সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরুন রুনি বলেন, আমি গর্ববোধ করি তাঁর মতো একজন নারীর জন্য। বেগম রোকেয়া আমাদের শক্তি, চেতনা, দর্শন ও অনুপ্রেরণা। পায়রাবন্দে জন্ম নেয়া বেগম রোকেয়া শুধু রংপুরের নয়, পুরো দেশের গর্ব। রংপুর প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী বলেন, বেগম রোকেয়ার চিন্তা চেতনায় সমাজের সংস্কার ও নারী শিক্ষার জন্য যে প্রচেষ্টা ছিল, তা আজ স্বার্থক। নারীরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত। রংপুরের মাটিতে বড় পরিসরে সেই আলোর দিশারীর ভাস্কর্য স্থাপন করা ছিল সময়ের দাবি।

ভালো লাগছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা রোকেয়ার দৃশ্যমান ভাস্কর্য দেখতে পাবো। স্থানীয় কবি সাকিল মাসুদ বলেন, আগে রোকেয়ার প্রতিকৃতি দেখতে মিঠাপুকুরে যেতাম। এখন রংপুর নগরের শালবনের মধ্যেই সেটি দেখতে পাবো। নারী জাগরণের অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মাণ শেষের দিকে। রোকেয়া দিবসেই এই নান্দনিক ভাষ্কর্য উন্মুক্ত হবে বলে শুনেছি। আমরা সেই দিনটির প্রতিক্ষা করছি। রোকেয়ার এই ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হোক রোকেয়া চেতনার আলোকিত যুগ। এদিকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন ভাস্কর অনীক রেজা। তিনি জানান, এই ভাস্কর্যের প্রাথমিক কাজ তার পীরগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে শুরু করেছিলেন।

ওই সয়ে দুই দফায় কে বা কারা তার অনুপস্থিতিতে ভাস্কর্য নির্মাণ কাজের ব্যঘাত ঘটাতে তা ভেঙে ফেলে। এতে সে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। একারণে দীর্ঘদিন কাজও বন্ধ ছিল। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। বরেণ্য এই ভাস্কর আরো জানান, রোকেয়ার প্রতিকৃতি উন্মোচন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। হয়তো ডিসেম্বরে বেগম রোকেয়া দিবসেই উন্মোচন করা সম্ভব হবে। এটি দৃশ্যমান হলে রোকেয়ার প্রতিকৃতির সাথে দেখা মিলবে তাঁর লেখা বই আর স্মরণীয় কিছু বাণী। এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ দ্রত শেষ করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। আশা করছি ডিসেম্বরে বেগম রোকেয়া দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে এঁর উন্মোচন করা সম্ভব হবে।

সূত্রঃদাবানল

Baobao

এই সংবাদ ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরও সংবাদ দেখুন

Baobao Cupon Banner

© All rights reserved © 2020 drbtv.live