18.8 C
Rangpur City
Thursday, December 8, 2022

স্কুল ছাত্রীর সামনে ‘হিরো সাজতে’ শিক্ষকে হত্যা করে জিতু

-- বিজ্ঞাপন --

এক ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোয়িজম প্রদর্শন করতে আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল আহসান জিতু। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে বুধবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় গাজীপুরে অভিযান পরিচালনা করে আশরাফুল ইসলাম জিতুকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। সাভারের শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি জিতু।

-- বিজ্ঞাপন --

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জিতু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে ওই স্কুলে এক ছাত্রীর সঙ্গে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে শিক্ষক উৎপল কুমার তাকে প্রেষণা দেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ও ওই ছাত্রীর নিকট নিজের হিরোইজম প্রদর্শন করার জন্য শিক্ষকের ওপর হামলা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে ২৫ জুন একটি ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প স্কুলে নিয়ে আসে এবং তা শ্রেণিকক্ষের পেছনে লুকিয়ে রাখে ও তার শিক্ষককে আঘাত জন্য খুঁজতে থাকে। পরে কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোণে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অতর্কিতভাবে আঘাত করতে থাকে। জিতু তার শিক্ষককে প্রথমে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে এবং পরে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত জিতু এলাকায় অবস্থান করলেও পরে এলাকা ত্যাগ করে। প্রথমে বাসে মানিকগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে রাতে থাকে। পরদিন সে তার অবস্থান পরিবর্তন করে আরিচা ফেরিঘাটে পৌঁছায় এবং ট্রলারে নদী পার হয়ে পাবনার আতাইকুলাতে তার পরিচিতের বাড়িতে আত্মগোপণ করে। পরদিন ভোরে সে আবারও তার অবস্থান পরিবর্তন করার জন্য আতাইকুলা থেকে বাসে কাজিরহাট লঞ্চ টার্মিনালে এসে লঞ্চে আরিচাঘাট পৌঁছায়। সেখান থেকে বাসে গাজীপুরের শ্রীপুরে ধনুয়া গ্রামে এক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে যায়। সেখান থেকেই জিতুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।’

-- বিজ্ঞাপন --

গ্রেফতার জিতুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে শিক্ষা জীবনে বিরতি দিয়ে প্রথমে স্কুল, পরে মাদ্রাসা ও সর্বশেষ পুনরায় স্কুলে ভর্তি হয়। জিতু ওই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। স্কুলে সবার কাছে একজন উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত সে। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

কমান্ডার মঈন বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বিরক্ত করতো জিতু। স্কুল প্রাঙ্গণে সবার সামনে ধুমপান, স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়া স্কুলে আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাফেরা করতো সে।’

-- বিজ্ঞাপন --

‘জিতু তার নেতৃত্বে এলাকায় ‘জিতু দাদা’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে। গ্যাং সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে যত্রতত্র আধিপত্য বিস্তার করতো সে। পরিবারের কাছে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে জিতু তার অনুসারি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হতো।’

তিনি আরো বলেন, স্কুল থেকে তার বিভিন্ন সনদপত্র আমরা সংগ্রহ করেছি। সেখানে আমরা দেখতে পেয়েছি তার বয়স ১৯ বছর। যেহেতু মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ১৬ বছর। সেই প্রেক্ষিতে আমরা তাকে উপস্থাপন করেছি।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,607FollowersFollow
768SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles