25.7 C
Rangpur City
Saturday, May 21, 2022
Royalti ad

সাজা শেষ হলেও কুড়িগ্রামের কারাগারে বন্দি ৭ ভারতীয়

-- বিজ্ঞাপন --Royalti ad

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগের সময় শেষ হলেও আসামি হস্তান্তর জটিলতায় মুক্তি মিলছে না কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে বন্দি ভারতীয় ৭ নাগরিকের। কারা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে জানালেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ থেকে আসামি পুশব্যাকের বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় মেয়াদ শেষেও বন্দিত্ব থেকে মুক্তি মিলছে না ভুক্তভোগী ভারতীয় বন্দিদের।

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক বন্দি আছেন। এর মধ্যে ৭ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। অপর একজন হাজতি এবং একজন সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

কারা সূত্র জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ভারতের নাগরিক সেলিম মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম ও মাহা আলম শেখকে আটক করে কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের সকলের বাড়ি ভারতের আসামের ধুবরি জেলার দক্ষিণ মানকারচরের হাট শিঙ্গিমারী থানার কানাইমারি দক্ষিণ শালমারা গ্রামে। তাদের বাবার নাম যথাক্রমে নুর ইসলাম, আমিরুল ইসলাম এবং সানোয়ার হোসেন।

তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত ভারতের এই তিন নাগরিকের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি। কিন্তু সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কারামুক্তি মেলেনি। তারা এখনও কুড়িগ্রাম কারাগারে প্রত্যাবাসন প্রত্যাশী হিসেবে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

ভারতের কুচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার সাদিয়ালের কুটি গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া। তার বাবার নাম দুদু মিয়া। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হলে চার মাসের কারাদণ্ড হয় আলমের। ২০২১ সালের ২১ মে থেকে কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দি আলমের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে একই বছর ২২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু প্রত্যাবাসন জটিলতায় বিগত ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি আছেন আলম মিয়া।

একই বিড়ম্বনার শিকার হয়ে সাজার মেয়াদ শেষে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি আছেন ভারতের নাগরিক নুরুজ্জামান। তিনি ভারতের আসামের ধুবরি জেলার হাট শিঙ্গিমারি থানার কানাইমারা গ্রামের ছরুদ আলীর ছেলে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক নুরুজ্জামান ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন। আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়ে তার দুই মাস ১৫ দিনের সাজা শেষ হয়েছে ২০২১ সালের ১৯ মার্চ। কিন্তু প্রত্যাবাসন জটিলতায় সাজা শেষে এক বছরেও তার মুক্তি মেলেনি।

-- বিজ্ঞাপন --Bicon Icon

এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিক কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বন্দি আছেন হারেছ আলী। তার বাড়ি ভারতের ধুবরি জেলার নীলক্ষীয়া পাট্রু গ্রামে। আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সাজা দিয়েছেন। তিনি ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কারাভোগ করছেন।

আর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সীমান্ত এলাকায় আটক হয়ে জেলা কারাগারে বন্দি আছেন আনোয়ারুল শেখ। তিনি ভারতের কুচবিহার জেলার সাইফুল আলীর ছেলে। তার মামলা এখনও বিচারাধীন।

কারাগারে বন্দি ভারতীয় নাগরিক গোলজার ও তৈয়ব আলী ২০২১ সালের ২ এপ্রিল রৌমারী সীমান্তে আটক হন। তাদের দুজনের বাড়ি ভারতের ধুবরি জেলার দক্ষিণ শালমারার দ্বীপচর গ্রামে। গোলজার হোসেনের বাবার নাম সমশের আলী আর তৈয়ব আলীর বাবার নাম আকবর আলী। গোলজার ও তৈয়ব আলীকে আদালতে নেওয়া হলে আদালত তাদের ১০ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান। তাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এখনও মুক্তি মেলেনি তাদের। তারাও প্রত্যাবাসন প্রত্যাশী বন্দি হিসেবে দুই মাস ধরে অঘোষিত সাজা ভোগ করছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কারাগারে বন্দি আছেন তারা মূলত রিলিজড ফরেন প্রিজনার। পুশব্যাকের সম্মতি না পাওয়ায় তাদেরকে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে সাজার মেয়াদ শেষ হলেও তাদেরকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কোনো ভারতীয় (বিদেশি) বন্দির সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি অবহিত করে কারা অধিদপ্তরকে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ সেটি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে অবহিত করে। পরবর্তীতে বিজিবি ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দি হস্তান্তর করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার মো. ইসমাইল হোসেন ভারতীয় নাগরিকদের মুক্তি নিয়ে জটিলতা ও বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়গুলো সময় মতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত অনুমোদন পাওয়া গেছে। সে মোতাবেক বিজিবি, রংপুর সেক্টর কমান্ডারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। বিজিবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করে প্রত্যাবাসনের তারিখ জানাবে। কিন্তু এখনো অনুমোদন মেলেনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। তারা তথ্য যাচাই বাছাই করছেন। ভারতীয় পক্ষের ক্লিয়ারেন্স ও বিজিবির সম্মতি পেলে আমরা পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর চেকপোস্ট দিয়ে সাজা পূরণ হওয়া বন্দিদের পুশব্যাক করবো। অনেক সময় আটক ভারতীয়রা তাদের ঠিকানা ভুল দেওয়ার কারণে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই বাছাইয়ে বেশি সময় লাগে বলে জানান জেলার।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,666FollowersFollow
397SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles