30.6 C
Rangpur City
Monday, September 26, 2022
Royalti ad

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া সেই তিন যাত্রীর পরিচয় মিলেছে

-- বিজ্ঞাপন --

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় পরিচয় দেওয়া সেই তিন যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নিকটাত্মীয়। ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া ব্যক্তি মো. ইমরুল কায়েস। তিনি রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের মামাতো বোন ইয়াসমিন আক্তার নিপার ছেলে। তারা ঈশ্বরদীর নূরমহল্লায় বসবাস করেন।

ইমরুল কায়েস নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। তার ট্রেনযাত্রার সঙ্গী হাসান ও ওমর রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মীর মামাতো ভাই। হাসানের বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম। হাসান রাজশাহীতে একটি কলেজে এইচএসসিতে পড়াশোনা করেন। ওমরের বাবার নাম আব্দুর রহমান। ওমর পাবনা শহরে একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। হাসান ও ওমর ইয়াসমিন আক্তার নিপার চাচাতো ভাই।

-- বিজ্ঞাপন --

ঘটনার রাতে রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের সঙ্গেই ছিলেন ইয়াসমিন আক্তার। তার ভাষ্যমতে, ছেলে ইমরুল কায়েস ফোন দিয়ে ট্রেনে ঝামেলার কথা জানালে রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার রেলওয়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে টিটিই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করতে বলেন।

ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘৫ মে রাতে তার ছেলে ইমরুল টিকিট না পাওয়ায় নুরুল আলম নামের রেলওয়ের এক সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে (এসিও) ফোন দেন শাম্মী আক্তার। রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর পরিচয় পেয়ে স্টেশনমাস্টার টিকিট করতে হবে না বলে জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার আত্মীয়ের টিকিট করতে হবে না।’ সে কারণেই ইমরুল কায়েস টিকিট ছাড়া ট্রেনে ওঠেন। পরে তাদের সম্মান দেখিয়ে এসি কেবিনে বসানো হয়।’

-- বিজ্ঞাপন --

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন ছাড়লে টিটিই এসে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। তিনি আমার ছেলেকে ‘ট্রেন কি তোর বাপের’ বলে গালি দেন। রাত ৩টার দিকে ছেলে ফোন দিয়ে এসব জানালে শাম্মী টিটিইর ফোন নম্বর চায়। কিন্তু ফোন নম্বর না দিয়ে চলে যায়। পরিচয় পাওয়ার পরও টিটিইর এমন আচরণে শাম্মী রেগে গিয়ে রেলের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে (ডিটিও) ফোন দিয়ে বরখাস্ত করতে বলেন। পরে তিনি টিটিইকে বরখাস্ত করেন।

ইমরুল কায়েস প্রান্তর দাবি, তিনি সুন্দরবন ট্রেনে তাড়াহুড়ো করে উঠেছিলেন। এজন্য টিকিট কাটতে পারেননি। পরে টিটিই শফিকুল ইসলাম তার কাছে বেশি টাকা দাবি করেন। সেটা না দেওয়ায় গালিগালাজ করেন। টিটিই শফিকুল ইসলাম মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

-- বিজ্ঞাপন --

এদিকে আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা তিনজন কোনো আত্মীয় নয় বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, টিটিই’র বরখাস্ত হওয়ার সাথে আত্মীয় পরিচয়দানের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এখন পর্যন্ত জানি না এরা কারা। আমার কাছে কোনো ইনফরমেশন নাই এরা কারা। ফলে কেউ পরিচয় দিয়েছে কী দেয়নি সেটা আমি জানি না।

গত বৃহস্পতিবার টিকিট ছাড়াই পাবনা থেকে ঢাকামুখী ট্রেনে উঠে এসি কামরায় বসেছিলেন তিন যাত্রী। ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) এলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলামের আত্মীয় পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁরা। তখন টিটিই বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য তাঁদের কাছ থেকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করেন। পাশাপাশি এসি কামরাও ছাড়তে হয় তাঁদের। গত বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনার পর ওই টিটিইকে মুঠোফোনে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার তিনি আর কাজে যোগ দিতে পারেননি।

বরখাস্ত হওয়া টিটিই হলেন মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি পশ্চিম রেলের সদর দপ্তর ঈশ্বরদীতে সংযুক্ত

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,629FollowersFollow
583SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles