26.5 C
Rangpur City
Thursday, October 6, 2022

রমেকে এই প্রথম এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশনে সফলতা

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো এন্ডোস্কপিক ব্রেইন টিউমার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ছয় সদস্যের চিকিৎসক টিম।

গত সোমবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এ অস্ত্রোপচার আলোর মুখ দেখে রাত তিনটার দিকে।

রমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. তোফায়েল হোসাইন ভূঁইয়া এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রমেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজকুমার রায়, সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীমা সুলতানা ও হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের ডা. হাসি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. ইসমে আজম জিকো।

-- বিজ্ঞাপন --

জানতে চাইলে ডা. ইজমা আজম জিকো বলেন রমেকে ৩৫ বছর বয়স্ক এক রোগী আসেন। তার বাড়ি উত্তরবঙ্গেই। তাঁর সমস্যা চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। তিনি বাম চোখে দেখেন না, ডান চোখে দেখেন, কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে কম দেখে। পরে রংপুর মেডিকেলের সার্জনরা চৌম্বকীয় অনুরণন প্রতিচ্ছবি (এমআরআই) করে দেখেন চোখের নার্ভে একটা টিউমার বেড়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে চোখের জাংশন হয় এবং এটি বড় হয়ে গেছে।

’তিনি আরও বলেন, টিউমারটি চোখের নার্ভে চাপ দেওয়ার কারণে রোগীর দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। টিউমার শনাক্তের পর চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করেন। অপারেশনটি দুইভাবে করা যায়, কেটে কিংবা এন্ডোস্কপিক দিয়ে। এর আগে রংপুর মেডিকেলে কেটে অনেক সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে জানিয়ে ডা. ইজমা আজম জিকো বলেন, ‘এবার রমেকের চিকিৎসকরা চিন্তা করলেন, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নাক দিয়ে এন্ডোস্কপিক করার। এন্ডোস্কপিক করতে যত সুযোগ-সুবিধা ও লজিস্টিক সাপোর্ট লাগে, তার টারশিয়াল পর্যায়ের দক্ষ জনবল আছে।

-- বিজ্ঞাপন --

রমেকের নিউরোসার্জনরা চিন্তা করলেন, বাদ বাকিটা ঢাকা থেকে সাপোর্ট দিলে অপারেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। তখন ফোন দিয়ে বলা হলো, তোমার ব্যক্তিগত যন্ত্রপাতি আছে, এসব নিয়ে আমাদেরকে অপারেশনটি করে দিয়ে যাও, তাহলে এখানে রোগীরও লাভ হলো, একটি নতুন ইতিহাসও সৃষ্টি হলো।

’তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপারটা আমি খুব আনন্দ সহকারে নিয়েছি, আমার ব্যক্তিগত লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাই। পরে আমরা দশটার দিকে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেই। কাজ শেষ করতে তিনটা বেজে যায়। রাত সোয়া তিনটার দিকে তাঁর জ্ঞান ফিরে। রোগীর অবস্থা এখন খুবই ভালো। রোগী কথা-বার্তা ও হাঁটা-চলা করতে পারছেন, খেতেও পারছেন। তাঁর অবস্থা উন্নতির দিকে।

-- বিজ্ঞাপন --

’জানতে চাইলে অস্ত্রোপচার দলের অন্যতম সদস্য  রমেক হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীমা সুলতানা বলেন, এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এমন একটি অস্ত্রোপচার প্রথমবারের মতো রংপুরে করতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে অনেক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা রয়েছে। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে অস্ত্রোপচার শেষ করতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত। সরকার আমাদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিলে ভবিষ্যতেও এমন অস্ত্রোপচার আরও করা সম্ভব।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,627FollowersFollow
603SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles