25.9 C
Rangpur City
Friday, August 12, 2022
Royalti ad

রংপুরে বৃষ্টি চেয়ে বিশেষ নামাজ-মোনাজাত

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুরে বৃষ্টির জন্য দুই রাকাত ইস্তিসকার নামাজ আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেছেন মুসল্লিরা। স্মরণকালের অসহনীয় গরম আর তাপপ্রবাহে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষজন এ সময় স্বস্তির বৃষ্টির আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর জেলা সম্মিলিত ইমাম পরিষদের আয়োজনে নগরীর ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এ নামাজ আদায় করা হয়। এতে ইমামতি করেন কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন।

-- বিজ্ঞাপন --

নামাজ শেষে মুসল্লিরা জানান, প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ছে রংপুরাঞ্চল। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে মানুষের জীবন। এই তাপদাহ ও অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি ও আল্লাহর নিয়ামতের জন্য এই নামাজ আদায় করেছেন তারা।

চাষি একরামুল হোসেন নামাজ আদায় করতে এসেছেন প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের গংগাচড়া থেকে। তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আমনের আবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি। বৃষ্টির অভাবে বর্ষাকালেও ডাঙা ও আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তাই খরা ও অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করলাম।’ একরামুলের মতো আরও অনেকেই এসেছেন নামাজ আদায়ে।

-- বিজ্ঞাপন --

দোকান বন্ধ রেখে নামাজ আদায়ে এসেছেন মুরাদ হোসেন। তিনি জানান, এই কষ্ট থেকে রেহাই পেতে এই নামাজে পড়তে এসেছেন তিনি।

ক্বারী আতাউল হক বলেন, ‘এ বছর তেমন বৃষ্টি নেই। তাই আল্লাহর দরবারে দুই রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করেছি। আল্লাহ যেন এই পরিস্থিতির অবসান ঘটান, তার জন্য দোয়া করেছি।’

-- বিজ্ঞাপন --

এই আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজুল ইসলাম জানান, এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনসহ আনুগত্য প্রকাশে এই নামাজ আদায় করা হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখা নেই। আষাঢ় শেষে শ্রাবণ শুরু হয়েছে, তবুও স্বস্তির বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি ও স্বস্তির বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছি। অসহ্য গরম আর দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ এ নামাজ ও দোয়া পরিচালনা শেষে সম্মিলিত ইমাম পরিষদের সভাপতি ও কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন বলেন, আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের পাপের জন্য ক্ষমা চেয়েছি। তাঁর কাছেই আমরা অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি চেয়েছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং তিনিই চাইলে এই অসহনীয় গরম ও তাপপ্রবাহ থেকে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। আল্লাহ আমাদেরকে বৃষ্টির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাবেন ইনশাআল্লাহ। আমরা আরও দুদিন এই নামাজ আদায় করব।

বৃষ্টি চেয়ে নামাজ আদায় ও আল্লাহর দরবারে দোয়া মোনাজাতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেন।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
498SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles