25.9 C
Rangpur City
Sunday, June 26, 2022
Royalti ad

রংপুরের হাঁড়িভাঙা বদলে দিলো ভাগ্য, ২০০ কোটি টাকা বিক্রির আশায় চাষিরা

-- বিজ্ঞাপন --Royalti ad

সারাদেশে রয়েছে রংপুরের হাঁড়িভাঙা আমের খ্যাতি। চাহিদাও বেশ। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। এই আমের বৈশিষ্ট্য হলো আঁশবিহীন ও মিষ্টি। একসময় বদরগঞ্জ উপজেলায় এই আমের ফলন হলেও এখন জেলার বিভিন্ন স্থানে হয়। আম চাষে অনেকের ভাগ্য বদলে গেছে। হয়েছেন স্বাবলম্বী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জেলায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। এতে খুশি চাষিরা। ২০০ কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছেন তারা।

রংপুর নগরীর বড়বাড়ী, সদর উপজেলার সদ্যপুস্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ি, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দারপাড়া ও মিঠাপুকুর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান রয়েছে। অন্যান্য বছর হাঁড়িভাঙ্গা আমে ১২০ থেকে ১৫০ কোটি ব্যবসা হলেও এবার ২০০ কোটি টাকার আম বিক্রির কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

-- বিজ্ঞাপন --

জানা গেছে, ৩৫ বছর আগে থেকে রংপুরে হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ হচ্ছে। এই আমের বৈশিষ্ট্য হলো আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। ছাল খুব পাতলা এবং আঁটি ছোট। প্রতিটি আমের ওজন ১৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম। সাধারণত জুনের তৃতীয় সপ্তাহে এই আম বাজারে আসে। তাই এবার ২০ জুন গাছ থেকে নামানো হবে হাঁড়িভাঙ্গা আম।

সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে, শত শত একরজুড়ে আমের বাগান। প্রতিটি গাছে ঝুলছে আম। এরই মধ্যে অনেকটা পরিপক্ব হয়ে গেছে। এখন নামানোর অপেক্ষা।

-- বিজ্ঞাপন --

পদাগঞ্জ এলাকার আম চাষি সেকেন্দার আলী ও তার ভাই আসগর আলী জানিয়েছেন, করোনার কারণে গত দুই বছর আম রফতানি হয়নি। বাজার দর কম ছিল। এজন্য তেমন লাভ হয়নি। এবার করোনার সংক্রমণ কমে গেলেও ঝড়বৃষ্টির কারণে ঝরে গেছে অনেক আম। বর্তমানে গাছে যা আছে ভালো দাম পেলে লাভবান হবেন। তাদের তিন একর জমিতে আম বাগান। বাগান থেকে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার আম বিক্রির আশা করছেন তারা।

পদাগঞ্জ এলাকায় প্রথমে বাণিজ্যিকভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ শুরু করেন আব্দুস সালাম। তার সফলতা দেখে ওই এলাকার চাষিরা আম চাষ শুরু করেন। এই এলাকার মাটি লাল ও কাদাযুক্ত হওয়ায় বছরে একবার ধান ছাড়া কোনও ফসল উৎপাদিত হতো না। সে কারণে এলাকার সবাই হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষ শুরু করেন। এই সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

-- বিজ্ঞাপন --Bicon Icon

এরপর বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার লাল মাটিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়। এই আম চাষে এলাকার মানুষ এখন স্বাবলম্বী। চাষিদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে আম। গত কয়েক বছরে গ্রামের দৃশ্যও বদলে গেছে। এখন আম চাষেই পুরো বছর সংসার চলে তাদের।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাঁড়িভাঙা আম উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে আম চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন চাষিরা। বর্তমানে বাগানের মালিক, ফড়িয়া, নিরাপত্তাকর্মী, মৌসুমি বিক্রেতা ও পরিবহনকারীরা আম বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ নিয়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. শামিমুর রহমান বলেন, ‘এবার রংপুরে এক হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি। প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদিত আমে ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।’

চাষিরা বলছেন, গত দুই বছর করোনার কারণে আমের ন্যায্যমূল্য পাননি। এবার ঝড়বৃষ্টির কারণে অনেক আম ঝরে গেছে। সে কারণে আড়াই হাজার টাকার ওপরে মণ বিক্রি করতে না পারলে তাদের লাভ হবে না।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘সব জাতের আমের চেয়ে একটু দেরিতে পাকে হাঁড়িভাঙা। সে কারণে ২০ জুনের পর থেকে আম কেনার আহ্বান জানাচ্ছি ক্রেতাদের। আম চাষিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জুন থেকে আম নামাতে শুরু করবেন। এবার আম বিক্রি করে লাভবান হবেন চাষিরা। ফলনও ভালো হয়েছে। উৎপাদনও বেশি হয়েছে। আশা করা যায়, ২০০ কোটি টাকার বেশি আম বিক্রি হবে।’

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,653FollowersFollow
464SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles