18.7 C
Rangpur City
Thursday, December 1, 2022

রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম : ২০০ কোটি টাকারও বেশি বিক্রির আশা

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম বিক্রি শুরু হচ্ছে গতকাল। কাকডাকা ভোর থেকেই আম পাড়া শুরু করেছে আমচাষিরা। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি তারা। চাহিদা ভালো থাকার পাশাপাশি ন্যায মূল্যে আম বিক্রি করতে পারবে বলে আশাবাদী চাষিরা।

রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম দেশে উত্পাদিত সব জাতের আমের জনপ্রিয়তাকে পেছনে ফেলে এখন দেশ সেরা আমের খ্যাতি অর্জন করেছে। দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আম বিক্রয় শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমের আড়তদাররা ভিড় করছেন হাঁড়িভাঙা আমের রাজধানী বলে খ্যাত রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পাদাগঞ্জ হাটে। আমচাষিরা আশা করছেন এ বছর তারা ২০০ কোটি টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন।

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকায় হাঁড়িভাঙা আম প্রথম উৎপাদন করে কৃষক সালাম। সম্পূর্ণ আঁশমুক্ত সুস্বাদু হওয়ায় এ আমের চাহিদা এখন সারা দেশে। এখন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর, মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ, কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট সর্দ্দারপাড়া, সদর উপজেলার সদ্যপুস্করণী ইউনিয়নের কাঁটাবাড়ী পার্শ্বে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের সবগুলো গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান গড়ে উঠেছে। মূলত লালমাটি এলাকায় হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয় আর লালমাটির আম ভীষণ সুস্বাদু। গত বছর আমচাষিরা আমের দাম ভালো পাওয়ায় আরো নতুন নতুন আমবাগান গড়ে তুলেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ফলনও হয়েছে তুলনামূলক ভালো।

ক্ষুদ্র আমচাষিদের অভিযোগ, তারা ন্যায্যমূল্য পান না। যদি আম সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকত তাহলে তারা আরো বেশি লাভবান হতেন। বড় বড় ব্যবসায়ীরা আগাম টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নেওয়ায় তারা লাভবান হচ্ছেন বেশি বলে আমচাষিদের অভিযোগ। তার পরেও বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার ৭০টি গ্রামের মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে হাঁড়িভাঙা আম। এই আম চাষ করে তারা এখন পুরোপুরি স্বাবলম্বী।

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের আমচাষি মোরসালিন ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে ঝড়বৃষ্টি হলেও আশানুরুপ ফলন হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আম চাষিরা আসছে। আশা করা যাচ্ছে এ বছর আমের ভালো দাম পাওয়া যাবে।

পদাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ৩ একর জমি নিয়ে আমার আমের বাগান। গত বছর আমার বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করি। তবে এ বছর আমের ভালো ফলন হয়েছে। তাছাড়া আমাদের এলাকার আমের চাহিদা বেড়েছে ব্যপক হারে। তাই মনে করি এ বছর ভালো ব্যবসা হবে।

-- বিজ্ঞাপন --

আম কিনতে আসা পাইকার মনির হোসেন বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের সুনাম সারা দেশে রয়েছে। তাছাড়া আমাদের এলাকায় এ আমের চাহিদা রয়েছে অনেক। তাই রংপুরের পদাগঞ্জ পাইকারি বাজারে আম কিনতে আসা।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, এ মৌসুমে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৬ টন। প্রতি টন গড়ে বিক্রি হবে ৩৩ হাজার টাকায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, এ বছর রংপুরে ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙা আম হয়েছে। এবার অতিবৃষ্টি আর ঝড়ের কারণে আমের ফলন বাম্পার না হলেও ভালো হয়েছে। তার পরেও প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,609FollowersFollow
756SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles