26.6 C
Rangpur City
Friday, October 7, 2022

রংপুরের কাউনিয়ায় সরকারি কবর স্থানের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুরের কাউনিয়ায় ধুমেরকুঠি সরকারি কবরস্থানে বেশিরভাগ জমি অবৈধভাবে দখলের পর দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। এদিকে কবর স্থানে ফাঁকা জায়গা না থাকায় মৃতদেহ দাফন নিয়ে বিপাকা পরেছে স্বজনরা।

জানা গেছে, উপজেলার সারাই ইউনিয়নের জয়বাংলা বাজার এলাকায় মুসলমানের ব্যবহার্য্য একটি সরকারি কবর স্থান রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে ধুমেরকুটি, জয়বাংলা, ভিতুরকুঠি, একতাবাজার, দর্জিপাড়া. পরামানিক পাড়া, নাজিরটারী, বানিয়াটারী, চাদনীপাড়া, নওহাটী, জয়বাংলা নিবাস সহ আশাপাশের আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের বিত্তবান, মধ্যবিত্তরা সহ দরিদ্র পরিবারের মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ এ কবরস্থানেই দাফন করা হয়। কিন্তু প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জোড় পুর্বক সরকারি কবর স্থানের জমি অবৈধভাবে দখল করে আধাপাকা দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে। আবার কেউ তাদের দখলে থাকা কবর স্থানের জমি বিক্রিও করে দিয়েছে। এতে করে এই কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের মরদেহ দাফনে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধুমেরকুটি কবর স্থানের উত্তর দিকে জমিতে আধা পাকা ২৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে গোডাউন, হোটেল, টেইলার, কাঠের ফার্নিসার, সেলুন ও চায়ের দোকান রয়েছে।

নওহাটি গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, ধুমেরকুটি কবর স্থানে বর্তমানে মৃতদেহ দাফনের জায়গা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে যেটুকু জায়গা ফাঁকা রয়েছে, সেটুকু জায়গা অবৈধভাবে জবর দখল করে দোকারঘর নির্মান করেছে।

-- বিজ্ঞাপন --

একতা গ্রামে শমশের আলী বলেন, অবৈধভাবে দখল হওয়ায় কবরস্থানে ফাঁকা জায়গা নাই। কবর খুরতে গেলে তাজা হাত পা ও মরদেহ বের হয়ে আসে। এলাকায় কেউ মারা গেলে তাকে সম্প্রতি শায়িতদের কোল ঘেষে দাফন কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

ভিতুরকুঠি গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, এখানকার বেশীরভাগ বিত্তবানদের পারিবারিক কবরস্থান আছে। কিন্ত দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষদের শুধু বসতভিটা আছে। এসব পরিবারের কেউ মারা গেলে এই সরকারি কবরস্থানে শায়িত করা হয়। সেই কবরস্থানের জমি এখন বেদখল।

-- বিজ্ঞাপন --

ধুমেরকুটি গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, কবর স্থানে গড়ে উঠা অবৈধ নির্মিত দোকানগুলোর পিছনে মাঝে মাঝে রাতে বসে গাঁজার আসর। এতে নষ্ট হচ্ছে কবরস্থানের পবিত্রতা।

ধুমেরকুটি কবরস্থান উন্নয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, আরএস রেকর্ডে এ কবরস্থানের ৬৬ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রায় ২৫ বছর ধরে রওশন আলম, মোস্তাক, গ্রাম পুলিশ আলতাব, সরকারী স্কুলের শিক্ষক রাজু, পল্লীচিকিৎসক সহ বেশ কয়েকজন কবরস্থানের প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি অবৈধভাবে জবর দখল করে আছে। কবরস্থানে এখন মৃতদেহ দাফনের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র পরিবারের মৃত ব্যক্তির স্বজনরা সহ স্থানীয় মুসুল্লিরা। ২০১০ সাল থেকে বেশ কয়েকবার কবরস্থানের জমি উদ্ধারের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরের লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নাই।

কবরস্থানের জমিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে রওশন আলম বলেন, অনেকদিন আগে তিনি ওই স্থানের ৬ শতাংশ জমি জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে লীজ নিয়েছিলেন। পরে লীজটি বাতিল হয়ে যায়। কবরস্থানের জমিতে নির্মাণ করা দোকানঘর অন্যরা সরিয়ে ফেললে তিনি সরিয়ে ফেলবেন।

গ্রাম পুলিশ আলতাব হোসেন বলেন, সেখানে তো আমার একার ঘর নির্মিত নয়। মোস্তাক ও হাকিম দোকানঘর রয়েছে। তারা সরিয়ে ফেললে তিনিও ভেঙ্গে ফেলবেন।

সারাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মুসলমান কেউ মারা গেলে তাকে কবরস্ত করতে হয়। কিন্তু কতিপয় লোকজন ধুমেরকুটি সরকারী কবর স্থানের জমি দখল করায় জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানালেও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত মাসে এলাকাবাসী লিখিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে কবরস্থানের জমি উদ্ধারে আবেদন জানায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা তারিন বলেন, ধুমেরকুটি সরকারী কবর স্থানের জমি দখল করে দোকানঘর নির্মানের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কবরস্থানের জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করে রাখতে পারবে না। জমি উদ্ধারে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন তিনি। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানাতে চাইলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান জানান, ধুমেরকুটি সরকারী কবর স্থানের জমি অবৈধভাবে দখলকারী ব্যক্তি এবং দোকান মালিকদের গত সোমবার নোটিশ করা হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে তাদেরকে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ও বাড়ী ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অন্যতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,627FollowersFollow
603SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles