26.2 C
Rangpur City
Wednesday, May 25, 2022
Royalti ad

পাটগ্রামে ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ-বিএনপি নেতার মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তোলপাড়

-- বিজ্ঞাপন --Royalti ad

পাটগ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবৈধ অর্থ লেনদেনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৫ জানুয়ারি ২০২২ খ্রি. অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নে পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামাল হোসেনকে পরাজিত করে দহগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নৌকা মার্কা মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বিজয়ী হন। ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণও করেছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

শপথ গ্রহণের পরপরেই আওয়ামী লীগ দলীয় পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন ও দহগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনে ভোট বাণিজ্যের বিষয়টি চাউর হয়। কামাল হোসেন উক্ত নির্বাচনে বিএনপি ভোটারদের সমর্থন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতে সাইফুল ইসলামকে ৭ (সাত) লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য মতে, দহগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন না শর্তে কামাল হোসেন নিজেই এ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রদানকৃত টাকা ফিরে পেতে বিএনপির উপজেলা ও জেলা কমান্ডের কাছে স্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি ফাঁস হলে এর সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন কামাল হোসেন। এর আগেও সাইফুল ইসলাম ২০১৬ সালে নির্বাচন না করার শর্তে ৩ (তিন) লক্ষ টাকা বাগিয়ে নিয়েছিলেন বলে জানান। পাশাপাশি আরও অভিযোগ করে বলেন, সাইফুল ইসলাম তার বাড়িতে বহিরাগত আওয়ামী লীগ নেতাদের জায়গা দিয়ে চক্রান্ত করে আমাকে হারিয়ে দেয়।

-- বিজ্ঞাপন --

অবৈধভাবে অর্থ প্রদান করে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোট কেনার জন্য আমি টাকা দেইনি। বরং এটা তার ব্যক্তিগত ব্যয় এবং আমার পক্ষে আনারস মার্কার কর্মী হিসেবে কাজ করবেন বলে টাকা নিয়েছেন। যদিও তিনি কাজ করেননি। তাই প্রদানকৃত টাকা ফেরত পেতে বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন কামাল হোসেন। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম নৌকা মার্কার বিজেতা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমানের কাছ থেকেও মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অপরদিকে, চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয় ভাবে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকার পরও সাইফুল ইসলামের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ভেলকি দেখিয়ে বারবার টাকা বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --Bicon Icon

তবে এবিষয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কামাল হোসেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া এবং ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি উল্টো কামাল হোসেনের সঙ্গে কথিত তিনজন ব্যক্তির মধ্যে কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ তোলেন এবং তার প্রমাণ দিতে চাইলেও পরবর্তীতে তা কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, কামাল হোসেন চেয়ারম্যান থাকাকালীন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। কামাল হোসেন যেহেতু বিএনপিতে যোগ দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন, তাই আমার বিরুদ্ধে এহেন মিথ্যা ফন্দি এঁটেছেন। কথা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

দলীয় বিধি লঙ্ঘন করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সাইফুল ইসলাম অস্বীকার করলেও একাধিক বিএনপি নেতাকর্মী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দু’জনই দহগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান তফিজুল হক সরকারের বাড়িতে একটি বৈঠকও করেন। তফিজুল হক এই বৈঠকের কথা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকে অর্থ সংক্রান্ত কোনো কথা না হলেও উভয়ের মধ্যে সাত লক্ষ টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি লোক মারফত জেনেছেন।

এ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কামাল হোসেনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হলে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নেতৃবৃন্দ আলোচনা সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবেন।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,665FollowersFollow
401SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles