31.4 C
Rangpur City
Monday, September 26, 2022
Royalti ad

নীলফামারীতে নির্মাণ শ্রমিকের সাথে স্টেশন মাস্টারের হাতাহাতি

-- বিজ্ঞাপন --

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেসনে নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে সহকারী স্টেসন মাস্টারের হাতাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক সরদার মো: মতি ও স্টেশন মাস্টার ময়নুল ইসলাম মারাত্বকভাবে আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রেন চলাচল ও নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রেলওয়ে শ্রমিকলীগ নেতা মোখছেদুল মোমিনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

-- বিজ্ঞাপন --

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার কাজ চলছে। ঘটনার দিন স্টেশন মাস্টারের রুমের সামনের অংশে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। কাঁচা অবস্থাতেই ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে ট্রেনের সময় জানতে দুইজন যাত্রী মাস্টারের রুমে যান।
ঢালাইকাজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার রুমে যাত্রীদের যেতে নিষেধ করতে বলেন শ্রমিক সরদার মো: মতি। এর উত্তরে স্টেশন মাস্টার শ্রমিক সরদার মতিকে ঢালাই এলাকা ঘিরে দিতে বলেন। কেননা যাত্রীরা আসবেই।

এই কথার প্রেক্ষিতে শ্রমিক সরদার মতি স্টেশন মাস্টারকে রুমের ভিতরে রেখে বাইরে থেকে সিটকিনি লাগাতে গেলে স্টেশন মাস্টার ময়নুল ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিক সরদার মতির ওপর চড়াও হন।
এই সময় অন্য শ্রমিকরাও এগিয়ে আসলে শ্রমিকদের সাথে তাঁর হাতাহাতি শুরু হয়। যাত্রী ও রেলওয়ের অন্যান্য শ্রমিকরা উভয়পক্ষকে ছাড়িয়ে নেন। ব্যাপারটা স্টেসন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

-- বিজ্ঞাপন --

অন্যদিকে স্টেশন মাষ্টারের সাথে নির্মান শ্রমিকদের ঝগড়া চলাকালে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত বুকিং সহকারী মোঃ আবিদ হক হট্টগোলের আওয়াজ পেয়ে তার চেয়ারে ফরহাদ হোসেন নামে পরিচিত একজনকে বসিয়ে রেখে বাইরে ছুটে যায়।
এমন সময় কাউন্টারে সেনাসদস্য এক যাত্রী টিকিট নিতে গেলে ফরহাদ জানায় যে টিকিট দেয় সে নেই। এতে যাত্রী বলেন, তাহলে আপনি এখানে কি করছেন? এমন প্রশ্নে ফরহাদ বলে সেটা আপনাকে দেখতে হবেনা অপেক্ষা করেন।

এতে ওই যাত্রী ট্রেন এসে পড়েছে দ্রুত টিকিট দেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য তাড়া দিলে বচসা বাঁধে। এক পর্যায়ে ফরহাদ ক্ষিপ্ত হয়ে কাউন্টারের পাশের গেট খুলে বেড়িয়ে এসে যাত্রীর উপর চড়াও হয় এবং এলোপাথাড়ি ঘুসি মারতে থাকে।

-- বিজ্ঞাপন --

এতে অন্য যাত্রীরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে চরম বিবাদে লিপ্ত হয়। এই সময় ট্রেন এসে পড়লে যাত্রীরা সেই অবস্থাতেই ছুটে গিয়ে ট্রেন ধরায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা এই ঘটনা নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে।

এ ঘটনায় ঢাকা থেকে আসা আন্ত:নগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল ও সংস্কারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে খবর পেয়ে প্রথমে পার্বতীপুর ও সৈয়দপুর স্টেসনের দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার এসএম শওকত আলী আসেন।

পরে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন সহ রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে নির্মান শ্রমিকদের কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান। ফলে আবার কাজ শুরু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্টেশন মাস্টার এসএম শওকত আলী জানান, এটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তবে এভাবে স্টেসন মাস্টারের রুম বন্ধ করা নির্মাণ শ্রমিকদের ঠিক হয়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, উভয়পক্ষের ভুল বুঝাবুঝিতে এ ঘটনা ঘটেছে। বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি মোঃ সায়েম বলেন, স্টেসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সহযোগীতা করার পরিবর্তে সংষ্কার কাজে নানা জটিলতা সৃষ্টি করছেন। একারনে কাজ ধীরগতিতে এগুচ্ছে।

মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রেলওয়ে স্টেসন সংস্কার কাজ অন্যান্য জায়গায় শেষ হলেও সৈয়দপুরে এখনও অর্ধেক করা সম্ভব হয়নি। তার উপর এমন ঘটনা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। যা অনভিপ্রেত। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র মতে, স্টেসন মাষ্টার ও নির্মান শ্রমিকদের দ্বন্দ্ব নিরসন করা হলেও যাত্রীর উপর হামলাকারী বুকিং ক্লার্ক বিষয়টি এড়িয়া যাওয়া হয়। এসময় যাত্রীদের পক্ষে কেউ না থাকায় স্টেশন কর্মচারীদের অপ্রীতিকর আচরণের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
এনিয়ে স্টেসন এলাকায় এখনও কানাঘুষা অব্যাহত। সচেতন মহল এই দিকটা খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছেন। নয়তো ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। যা কারও জন্যই শুভকর হবেনা।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,629FollowersFollow
583SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles