19.8 C
Rangpur City
Tuesday, December 6, 2022

দিনাজপুরের সেই মণি-মুক্তা পা দিলেন ১৪ বছরে, চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়

-- বিজ্ঞাপন --

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে জোড়া থেকে আলাদা হওয়া সেই মনি-মুক্তার আজ জন্মদিন (২২ আগস্ট)। আজ তারা ১৪ বছরে পা দিয়েছে। তারা দুজনে স্থানীয় ঝাড়বাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ভালো আছে জোড়া থেকে আলাদা হওয়া এই দুই কিশোরী।

১৩ বছর আগে মণি-মুক্তা জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে দুই বোনকে আলাদা করা হয়।

-- বিজ্ঞাপন --

বাংলাদেশে প্রথম অস্ত্রপোচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো শিশুর সফল পৃথককরণ করা হয়। আর ঝুঁকিপূর্ণ এ চিকিৎসায় বাংলাদেশের খ্যাতিমান চিকিৎসক এ আর খানের সাফল্য বিশ্ব দরবারে চিকিৎসাবিজ্ঞানকে আরও সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের জয় প্রকাশ পালের মেয়ে মণি-মুক্তা। মা-বাবার কোলে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মণি-মুক্তা এখন ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

-- বিজ্ঞাপন --

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার নিজ বাড়িতে উদযাপন করা হবে মণি-মুক্তার জন্মদিন। প্রতি বছর শিক্ষক ও তাদের বন্ধুবান্ধবসহ প্রতিবেশী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয় এবারও ঘরোয়া পরিবেশে মণি-মুক্তার জন্মদিন পালন করা হবে বলে জানান তাদের বাবা জয় প্রকাশ পাল।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে মণি-মুক্তা বলে, আমরা চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে থাকব।

-- বিজ্ঞাপন --

জয় প্রকাশ পাল ও কৃষ্ণা রানী পালের ঘরে ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মণি-মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে রংপুরের চিকিৎসকরা তাদের মা-বাবাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মণি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়। ৮ ফ্রেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মণি-মুক্তা ভিন্ন সত্ত্বা ও ভিন্ন জীবন লাভ করে। তখন থেকেই বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।

মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল জানান, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশপ্ত জীবনের ফসল বলে প্রচার করতে থাকে। সমাজের নানা কুসংস্কারে প্রায় একঘরে হয়ে পড়ি। সমাজের নানা অপবাদে জোড়া লাগা সন্তান নিয়ে গ্রামে আসিনি। হতাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মুক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সস্তানের নতুন করে বেঁচে থাকা।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,607FollowersFollow
769SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles