25.7 C
Rangpur City
Monday, August 15, 2022
Royalti ad

চিরিরবন্দরে শ্বাশুড়ির যন্ত্রণায় ৬ মাসের সন্তান রেখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

-- বিজ্ঞাপন --

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শাশুড়ির সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে সুলতানা (২২) নামে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (০১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় উপজেলা শহরের চিরিরবন্দর সরকারি কলেজ মোড় এলাকার মাঝাপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মৃত সুলতানা ওই এলাকার সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী।

-- বিজ্ঞাপন --

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বরাবরের মতো আজও সন্ধ্যার মধ্যেই গৃহস্থালীর কাজ শেষ করে সুলতানা। কাজ শেষের এক পর্যায়ে বাড়ির আঙিনায় পানি ফেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় সুলতানার শাশুড়ি মর্জিনা বেগমের সাথে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী কথা কাটাকাটি শেষে শাশুড়ি মর্জিনা এবং গৃহবধূ সুলতানা নিজ নিজ ঘরে চলে যায়। এরপর ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে ফিডারে দুধ খাওয়ানোর পর ঘুম পাড়িয়ে দেন সুলতানা। মাত্র ৬ মাস বয়সী একমাত্র সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গলায় ওরনা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন, এমনটাই বলছেন তার পরিবার।

এব্যাপারে সুলতানার শাশুড়ী মর্জিনা বেগল বলেন, সন্ধ্যায় সামান্য একটু পানি ফেলা নিয়ে ছেলের বউ সুলতানাকে বকাঝকা করি। শুরু হয় কথা-কাটাকাটি এবং এক পর্যায়ে নিজনিজ ঘরে যাই। কিন্তু এরই মধ্যে সে যে এতো বড় কান্ড ঘটিয়েছে তা বিন্দুমাত্রও বুঝতে পারিনি আমি। নিজের ঘরেই ছিলাম আমি, ইতিমধ্যে আমার ছেলে সাদ্দাম কাজ শেষ করে বাসায় আসে। সে শহরের একটি কার্টুন তৈরীর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ছেলে বাসায় আসায় ঘর থেকে বের হই আমি, দেখতে পাই সুলতানার ঘরের দরজা বন্ধ, তবে ভেতর থেকে ছিলোনা লাগানো। দরজা খুলতেই দেখতে পাই গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলে আছে সুলতানা। তারাহুরো করে সাদ্দাম তাকে আলতো করে ধরেন এবং আমি কেটে দেই গলায় পেচানো ওড়না।

-- বিজ্ঞাপন --

এরপর সুলতানার চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।

এদিকে ঘটনায় মৃতের পরিবারের কোন প্রকার দাবী না থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন অন্য কথা। একাধিক প্রতিবেশিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বউ-শাশুড়ি’র এরকম কথা-কাটাকাটি আজ প্রথমবার নয়। এর আগেও বিভিন্ন তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি মনোমালিন্য হয়েছিলো। কয়েকমাস আগে মৃতের স্বামী সাদ্দাম হোসেন কাজ করতে গিয়েছিলো চট্টগ্রামে, দীর্ঘদিন ছিলো সেখানেই। ছেলের অনুপস্থিতিতে বউকে একা পেয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে কোন না কোন নির্যাতন লেগেই থাকতো। দিনের পর দিন এরকম চলতে থাকায় এক পর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে উপজেলার সুখদেবপুর গ্রামে বাবার বাড়ি চলে যায় সুলতানা, প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস ছিলো সেখানেই। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য, সদস্যা সহ এলাকার মুরব্বিদের সহযোগীতায় সুলতানাকে বাবার বাসা থেকে স্বামীর বাসায় ফিরিয়ে আনা হয় মাত্র দু সপ্তাহ আগে।

-- বিজ্ঞাপন --

স্বামীর বাসায় ফেরার পর কয়েকদিন ঠিকঠাক ছিলো সবই। কিন্তু আজ আবারও সৃতিচারণ হয় অতিত, অপমান আর যন্ত্রণা এতোটাই গভীর ছিলো যে সহ্য করার ক্ষমতা পেরিয়ে গেছে আজ। মাত্র ৬ মাসের একটি ফুটফুটে নিস্পাপ সন্তানকে ঘুমিয়ে রেখে চিরতরে বিদায় নিলেন সুলতানা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশিদ। তিনি বলেন ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ভাবে সুরাতাল রিপোর্ট করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসা হইছে যা আগামীকাল সকালে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
501SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles