30.4 C
Rangpur City
Sunday, August 7, 2022
Royalti ad

‘চারপাকে পানি ৩ দিন ধরি সাপের ভয়ে বাঁশের মাচাত আছি, কোন মতে রাইতত নিন পারি’

-- বিজ্ঞাপন --

‘চারপাকে পানি, ৩ দিন ধরি(ধরে) সাপের ভয়ে বাঁশের মাচাত আছি, কোন মতে (করক) রাইতত (রাতে) নিন (ঘুম) পারি।’ কথাগুলো এভাবে বলছিলেন রৌমারীর সদর ইউনিয়নের কড়াইকান্দি গ্রামের ৪৫ বছরের বাসিন্দা আয়নাল মোল্লা।
কুড়িগ্রামের দুটি নদ-নদী বিধৌত উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুরে গত ৪ দিন ধরে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পাহাড়ী ঢলের পানির কারণে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি আর শুকনো খাবারের সংকটে পড়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দুটি উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

এ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, ধরনী ও কালজানি নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অব্যাহত পানিবৃদ্ধিতে দুটি উপজেলার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পরেছে। বাড়িতে পানি উঠার ফলে বাঁশের মাঁচা ও চৌকি উঁচু করে রাত্রি যাপন করছেন অনেকেই।

-- বিজ্ঞাপন --

রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের বকবান্দা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুস (৫০) বলেন, ‘চারদিকত পানি কোথাও কাজ জুঁটছে না। গত তিন ধরি পরিবার নিয়্যা(নিয়ে) খুব কষ্টে আছি। কাইয়্যো(কেউ) খোঁজ-খবর নেয় নাই।’

রাজিবপুরের কোদালকাটি ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা শমসের আলী বলেন, ‘বানের পানিত এই এলাকার ২০০ মানষের(মানুষের) ঘর বাড়ি ভাসি গেছে। কোনমতে আমার নাওয়ত (নৌকা) আছি।’

-- বিজ্ঞাপন --

অন্যদিকে, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে ভাঙনের তীব্রতা। নদী-বিধৌত চরাঞ্চলের বসতবাড়ী গুলো ইতিমধ্যে জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই গাছপালা কেটে বসতবাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে এসব ইউনিয়নের বেশকিছু বসতবাড়ী।

চর লালকুড়া এলাকার ভ্যান চালক রহমত আলীর বসতবাড়ির একটি ঘর ইতিমধ্যেই জিঞ্জিরাম নদীর পেটে গেছে। অবশিষ্ট একটি ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাদাগাদি করে রাত কাটালেও সেটিও রয়েছে ভাঙনের মুখে।

-- বিজ্ঞাপন --

রহমত আলী বলেন,’হামরা কয়েক ভাই মিলি এক বাড়ীত বসবাস করি। জিঞ্জিরাম নদীর তীব্র ভাঙনে এর মধ্যে হামার একটা বসতঘর নদীর গর্ভত চলি গেছে। আর একটা ঘরত পরিবারের সদস্যদের নিয়া ভয়ে রাত কাটাচ্ছি।’

একই এলাকার বাসিন্দা জমিলা বেওয়া বলেন,’ ব্রহ্মপুত্রের এখানকার বাড়িগুলো যেকোন মুহুর্তে নদীগর্ভে চলে গেলে আশ্রয়হীন হয়ে পরবো। বসতবাড়ী ও গাছপালা নদী ভাঙনের হুমকিতে থাকায় এলাকার অনেকেই গাছপালা কেটে বসত বাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে।’

পাশ্ববর্তী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী এলাকার কৃষক করিম মিয়া বলেন,’এনজিও থাকে নেয়া ঋনের টাকায় ২ একর জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পুরো ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেবেছিলাম পাট বিক্রি করে ঋনের টাকায় পরিশোধ করবো। কিন্তু তা আর হলো না। আমি তো পথে বসে গেলাম।’

এদিকে,আকস্মিক বন্যার পানি বাড়ার কারণে
১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টি বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলায় করে চলাচল করছে প্লাবিত এলাকার মানুষজন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ১৪৭ হেক্টর জমির রোপা আউশ, ২২৩ হেক্টর জমির পাট, ৪৯ হেক্টর জমির তিল ও ৭৩ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষেত।

যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, ‘সরকারি ভাবে এখনো কোন বরাদ্দ পাই নাই। আমার এলাকার বন্যা পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। তিনি আরও বলেন, আমার ইউনিয়নের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান গতকাল জানিয়েছি। বন্যার পানির অবনতি হওয়ায় আজ আবার তালিকা করা হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন,’বন্যার পানিতে ১৪৭ হেক্টর জমির রোপা আউশ, ২২৩ হেক্টর জমির পাট, ৪৯ হেক্টর জমির তিল ও ৭৩ হেক্টর জমির শাকসবজী ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ পানি স্থায়ী হলে ক্ষেতের সব ফসল নষ্টের আশঙ্কা রয়েছে।’

রৌমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন,’উপজেলার ৪০টি বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বন্যার পানি উঠায় সেসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।’

এবিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী দুদিনের মধ্যে কিছু শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে বিতরণ করা হবে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি ডিসি স্যারকে অবগত করেছি।’

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
496SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles