19.8 C
Rangpur City
Tuesday, December 6, 2022

চাঁদপুরের দুটি গ্রামে আজই উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

-- বিজ্ঞাপন --

এবারই প্রথম সৌদি আরবকে অনুসরণ না করে আফগানিস্তান, নাইজার ও মালির সাথে মিলিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা ও শমেসপুর গ্রামের কিছু অংশের মানুষ।

সরেজমিনে রোববার (১ মে) হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাদরাসা মাঠে গেলে দেখা যায়, সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের জন্য মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। জামাতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি আল্লামা যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।

-- বিজ্ঞাপন --

আগে সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করলেও এবার আফগানিস্তান ও মালির সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করা নিয়ে দযাপনকারীদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যেই অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

দেশে চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষা না কর আগেই ঈদ উদযাপন করার বিষয়ে সাদ্রা দরবারের বড় পীরজাদা পীর ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি— এ তিন মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তেও যদি চাঁদ দেখা যায় আর সে সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তেও পৌঁছায়, তাহলে পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্য রোজা রাখা ফরজ এবং ঈদ করা ওয়াজিব।

-- বিজ্ঞাপন --

শনিবার আফগানিস্তান, নাইজার ও মালিতে চাঁদ দেখে গেছে। সে খবর অনুযায়ী আমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। পাশাপাশি ঢাকার সদরঘাটস্থ খানকা, আসকোনা এবং পটুয়াখালীর বদরপুর দরবার শরিফেও ঈদের জামাত হয়েছে। চাঁদ দেখার বিষয়টি যথাসময়ে পৌঁছে দিতে না পারায় অনেক গ্রামে ঈদ উদযাপন হয়নি। তারা পরে ঈদ উদযাপন করবে বলেও জানান তিনি।

তবে সাদ্রা দরবার শরিফের আরেক পীর মো. আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা ঈদ করছি না। আমার চাচারা ঈদ উদযাপন করলেও আমাদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। আমরা সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবো।

-- বিজ্ঞাপন --

স্থানীয়রা জানান, সরা দেশে যখন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়, তখন সাদ্রা ও শমেসপুর গ্রামে এক দিন আগে থেকে রোজা পালন শুরু হয়েছে। আজ রোববার যখন এ দুটি গ্রামের একটি অংশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে, তারা পালন করেছেন ২৯ রোজা। আর বাকি অংশ যখন সোমবার ঈদ উদযাপন করবে, তাদের পালন করা হবে ৩০ রোজা।

উল্লেখ্য, আরব দেশগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিবছর চাঁদপুরের তিনটি উপজেলার ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা ৯৩ বছর ধরেই প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সাদ্রাসহ ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন করে থাকে।

সাদ্রা ছাড়াও এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এ ছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে বিশ্বমুফতি আল্লামা মাওলানা ইছহাক চৌধুরীর অনুসারীরা এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,607FollowersFollow
769SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles