30.4 C
Rangpur City
Sunday, August 7, 2022
Royalti ad

কুড়িগ্রাম থেকে রাজধানীতে ফিরতে দ্বিগুণ ভাড়া, প্রতিবাদ করলেই হয়রানি

-- বিজ্ঞাপন --

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম থেকে রাজধানীতে ফেরা যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগ। এতে ঈদ শেষে ঢাকাগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে বাড়তি বাসভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক এসোসিয়েশন। এই হিসাব অনুযায়ী কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৫৩ কিলোমিটারে নন এসি কোচের ভাড়া ৬৩৫ টাকা। যাত্রাপথে যমুনা সেতুর টোলসহ এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৮৪০ টাকা। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগে জানা গেছে, বিশেষ করে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী ‘নাবিল’ পরিবহনে নন-এসি প্রতিটি সিটের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১৬০০ টাকা। এমতাবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক যাত্রী।

-- বিজ্ঞাপন --

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার সময়ও তাদের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া গুণতে হয়েছে। কুড়িগ্রামের এনা পরিবহনের ম্যানেজার মুকুল মিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা যাত্রীদের নিকট থেকে নির্ধারিত ভাড়া নিয়েই টিকিট বিক্রি করছি।

মনির হোসেন নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দুইশ বা তিনশ টাকা বেশি নিতে পারে। কিন্তু গত ১১ জুলাই নাবিল পরিবহনে আমি ২টি টিকিট কেটেছি ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা ফেরার জন্য। এ জন্য আমাকে ৩২০০ টাকা দিতে হয়েছে। এটা জুলুম। এগুলো প্রশাসনের দেখা উচিত। কারণ যারা ঢাকায় ছোটখাটো চাকরি করেন তাদের জন্য এত বেশি ভাড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব।

-- বিজ্ঞাপন --

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ভাড়া বেশি নিচ্ছি না। সরকারিভাবে নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় মনির হোসেনের বিষয়টি উত্থাপন করলে তিনি বলেন, ওই টিকিট নাবিল পরিবহনেরই রিজার্ভ বাস ছিল। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই করেছি। পরে ওই যাত্রী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করায় বাসটি বন্ধ করা হয়েছে। তাকে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

-- বিজ্ঞাপন --

এ দিকে বাস সংকটের কথা বলেও কৌশলে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। কুড়িগ্রামের বাসিন্দা মহসীন আলী। তিনি রাজধানীতে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। এই যাত্রীর অভিযোগ করে বলেন, ঈদ করতে বাড়ি এসেছিলাম। এখন ফিরে যাবো। কিন্তু সব কাউন্টার থেকে প্রথমেই বলা হচ্ছে টিকিট নাই। পরে অনুরোধ করলে বেশি ভাড়ার বিনিময়ে তারা টিকিট দিচ্ছে। কোথাও ১১০০, কোথাও ১৩০০ আবার কোথাও ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ঢাকার টিকিট।

কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক বাস ঢাকা যাওয়া-আসা করে। বাসের টিকিট কাউন্টার থেকেই বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে বলা হচ্ছে টিকিট শেষ।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতে যাত্রীরা প্রতারণার শিকার না হন এ জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
496SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles