24.6 C
Rangpur City
Thursday, December 1, 2022

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি সোয়া দুই লাখ মানুষ

-- বিজ্ঞাপন --

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সোমবার (২০ জুন) সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে এখনও ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে।

তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সেই সঙ্গে বানভাসী এলাকায় দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পবাদি পশুর খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকট।

-- বিজ্ঞাপন --

বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নাঞ্চল ও নদ-নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী চরাঞ্চলের মানুষজন। দুর্গম চরাঞ্চলের অনেক পরিবার নৌকা ও বাঁশের মাচাঙে আশ্রয় নিয়ে দিন পার করছে। আবার অনেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

বন্যা কবলিত এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি গ্রামের প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৬০টি বাড়ি। বন্যায় জেলায় প্রায় ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফসলাদি জমি নিমজ্জিত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। নদী ভাঙন ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বানভাসী মানুষ রয়েছেন চরম দুর্ভোগের মধ্যে। বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের।

-- বিজ্ঞাপন --

নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল ইসলাম জানান, বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে নুনখাওয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন পুর্ব কাপনায় ২ শতাধিক ঘর-বড়ি। এদিকে পানি বৃদ্ধির হার এত বেশি যে, চিন্তা করে গুছিয়ে অন্যত্র যাওয়ার আগেই পরিবার নিয়ে বাড়িতেই আটকা পড়ছেন মানুষ। অনেকে কোনোমতে তাদের গরু ছাগল সরিয়ে নিয়েছেন অন্যত্র। তারপরেও সঙ্গী হয়েছে তাদের অসহনীয় দুর্ভোগ। চলাচলে কলাগাছের ভেলাই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

তিনি আরও বলেণ, হাটু বা কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে সেখানেই সারতে হচ্ছে রান্নার কাজ। চৌকির উপর চৌকি দিয়ে কোনো মতে কাটাচ্ছেন রাত। কোথাও টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। তবে পানি যে গতি ও উচ্চতায় বাড়ছে তাতে বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেখা দেবে শুকনো খাবারের সংকট ও স্বাস্থ্য সমস্যা।

-- বিজ্ঞাপন --

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া জানান, আমার ইউনিয়নের মশালের চর ও পুর্বমশালেরসহ সবমিলে প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়েছে। এরমধ্যে কিছু পরিবার ফকিরের চর আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও আশ্রয় কেন্দ্রটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পাইনি।

এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৮৫টি মেডিকেল টিম, ৯ উপজেলায় একটি করে মনিটরিং টিম এবং সিভিল সার্জন অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ১৮টি ভেটেনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যানুযায়ী ইতোমধ্যে বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, রায়গঞ্জ, কালীগঞ্জ, কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাস, নুনখাওয়া, নারায়ণপুর ইউনিয়ন প্রায় সম্পূর্ণ ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড প্লাবিত। এখানে ২৫ হাজার পরিবারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন। এদের কেউ আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায়, কেউ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল জানান, ভারী বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কক্ষ চালু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সোমবার সকালে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি ব্রিজ পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদীর পানি নুন-খাওয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে এখনও ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,609FollowersFollow
756SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles