27.5 C
Rangpur City
Wednesday, August 10, 2022
Royalti ad

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আকস্মিক বন্যায়, নষ্ট ১০৭ হেক্টর ফসল

-- বিজ্ঞাপন --

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় আকষ্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ৪৯ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। পানিবন্দির পাশাপাশি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১০৭ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে ধান, পাট ও শাকসবজির খেত ছিলো বেশি। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষ। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা ও ভেলা।

ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দেয়া তথ্যমতে, রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের ঝাউবাড়ী, গুচ্ছ গ্রাম, বকবান্দা নামাপাড়া, বকবান্দা ব্যাপারী পাড়া, চর লালকুড়া, মধ্য লালকুড়া, উত্তর লালকুড়া, আলগার চর, উত্তর আলগার চর, বিক্রি বিল, লাটিয়াল ডাঙ্গা, পাহাড়তলী, তিন ঘড়ি পাড়া, পুরাতন যাদুর চর, যাদুরচর পূর্ব পাড়া, শ্রীফলগতি এবং রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম, দুবলাবাড়ী, রতনপুর, কলাবাড়ি, বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচর, উত্তর বারবান্দা, ইজলামারী, ফুলবাড়ি, ভুন্দুরচর, নয়ারচর, গোয়ালগ্রাম, চান্দারচর, খাটিয়ামারী, মাদারটিলা, পূর্বইজলামারী, কড়াইকান্দি ও ঠনঠনিপাড়া,
চর শৌলমারী ইউনিয়নের ডিগ্রির চর, নামাজের চর, শান্তির চর, ঘুঘুমারী চর, মিয়ার চর, সুখের বাতি পাড়ের চর, সোনা পুর, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর গয়টা পাড়া, কাউনিয়া চর, আমবাড়ি, মাদাইডাঙ্গা, ঝগড়ার চর, ধর্মপুর , কাউয়ার চর, টাপুর চর হাজির হাট এলাকার আবাদি ফসল নষ্ট হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --

কাশিয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘এবার আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করা হয়। এর মধ্যে দেড় বিঘা জমির ধান কাটতে পারলেও ভারত থেকে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল এসে তাঁর এক বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে তাঁর ২১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’ পুরাতন যাদুরচর এলাকার কৃষক হাজী আব্দুস সামাদ বলেন,’হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় এলাকার সব রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এখন নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নাই। ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না।’

লালকুড়া গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন,’হঠাৎ বন্যার পানি আইসা জমিতে রাখা সব খড় ভাসাইয়া নিয়া গেছে। এখন গরুরে খাওয়ামো কি এ চিন্তায় আছি।’

-- বিজ্ঞাপন --

যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, বন্যার পানিতে যাদুরচর ইউনিয়নের ২০০ বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এ ইউনিযনের ১২ গ্রামের ১৭ হাজার মানুষ। ভেলা আর নৌকায় পারপার হতে এসব গ্রামের মানুষকে। গতকাল রৌমারী ইউএনও কে সরেজমিন বন্যা কবলিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখানো হয়েছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দ্রুত ত্রাণ সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

দাঁতভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে এসব গ্রামের ইরিধান ও পাট ক্ষেতসহ অসংখ্য মৌসুমী ফসলি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।’

-- বিজ্ঞাপন --

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন,’অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১০৭ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে আউশ ধান ৪৮ হেক্টর, পাট ৪২, শাকসবজি ১২ ও ৫ হেক্টর তিল তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি এ পানি ৫ দিন স্থায়ী হলে ক্ষেতের সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশারাফুল আলম রাসেল বলেন,’সরেজমিন বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। বন্যার্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। আপাতত ফান্ডে যা আছে তা থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।”

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
497SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles