29.9 C
Rangpur City
Monday, August 15, 2022
Royalti ad

কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বেড়েছে বানভাসীদের দুর্ভোগ

-- বিজ্ঞাপন --

কুড়িগ্রামে বন্যা যত স্থায়ী হচ্ছে ততই দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসী মানুষদের মধ্যে। বেশিরভাগ পরিবার বাড়ির ভেতর চৌকি উঁচু করে কষ্ট করেই অবস্থান করছে। কেউ কেউ নৌকায় গবাদিপশু নিয়ে দিন-রাত পার করছে পানি নামার অপেক্ষায়। এ পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও প্রস্রাব-পায়খানার সংকটে ভুগছেন তারা।

চারণভূমিসহ মাঠঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন গবাদিপশুর খাবার নিয়েও। জেলার আড়াই লাখ পানিবন্দি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার উপর কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি ধীর গতিতে কমতে শুরু করেছে।

তিনি জানান, বুধবার (২২ জুন) সকালে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়ায় ২৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

-- বিজ্ঞাপন --

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য মতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৬১২ জন মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। নাগেশ্বরী উপজেলায় ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় ৩২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বানভাসী মানুষের কথা চিন্তা করে ৩৬১টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানা গেছে। অনেক পানিবন্দি এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি বলে বানভাসীরা অভিযোগ তুলেছেন।

-- বিজ্ঞাপন --

সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর গ্রামের হোসেন আলী বলেন, ‘নিজেরা না হয় কোনো রকমে চলব্যার নাগছি কিন্তু গরু-ছাগল নিয়া খুব বিপদে আছি। খড়ের গাদা পানিতে ভিজি গেইছে। এখন কী দেই আর কী খাওয়াই। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ১ হাজার ৪০০ পরিবারের বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া পানিবন্দি রয়েছে আরও ৩ হাজার ৫০০ পরিবারের লোকজন।

সদর উপজেলার ভগবতীপুর চরের আমেনা বেগম ও জোহরা খাতুন জানান, তারা চুলা জ্বালাতে পারছেন না। ঘরেও সবকিছু তলিয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করছেন।

ঘোগাদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নে ৭৫০ পরিবারের বসতঘর তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া পানিবন্দি রয়েছে ৪ হাজার পরিবার।

পাঁছগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, আমার ইউনিয়ন পুরো প্লাবিত হয়েছে। একটি বাড়িও পাবেন না যেখানে মানুষ শান্তিতে আছে।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়েছে ৫ হাজার ৮৪১ পরিবার। ত্রাণ পেয়েছে মাত্র ৭০০ পরিবার।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেদুল হাসান জানান, সদরের ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ভাঙনকবলিত ৫টি ইউনিয়নে ৯৪ জনকে যাচাই বাছাই করে চেক প্রদান করা হয়। এতে পাঁচগাছী থেকে ২৫ জন, যাত্রাপুর থেকে ২৪ জন, ঘোগাদহ থেকে ২২ জন ভোগডাঙ্গা থেকে ১৮ জন এবং হলোখানা ইউনিয়ন থেকে ৫ জনসহ মোট ৯৪ জনকে চেক তুলে দেওয়া হয়। এজন্য ইউনিয়নগুলো থেকে ৪৮৪ জন আবেদন করেছিলেন। সে অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক বিতারণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৯ উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৩৩৮ মেট্রিকটন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গোবাদিপশুর খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,637FollowersFollow
501SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles