30.6 C
Rangpur City
Monday, September 26, 2022
Royalti ad

কুড়িগ্রামের শেখ হাসিনা ধরলা সেতুতে দর্শনার্থীর ঢল

-- বিজ্ঞাপন --

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে নেই কোন বিনোদন কেন্দ্র। ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য একটু ঘোরাঘুরি, একটু আড্ডা না হলে কি আর চলে? তাই তো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মানুষ বেছে নিয়েছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’টি।

ঈদের আনন্দ ও উৎসব উপভোগ করতে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

-- বিজ্ঞাপন --

ঈদের দিন মঙ্গলবার ও ঈদের দ্বিতীয় দিন বুধবার, এবং ঈদের তৃতীয় দিন উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর দুই পাড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত হয়েছেন। উপজেলায় কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় এখানেই এসেছেন লোকজন।

অনেকেই সেতুর উপর, বাঁধে ও ধরলার কাছাকাছি গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে মোবাইলে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

-- বিজ্ঞাপন --

গত দুই বছর করোনার বিধিনিষেধ থাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারলেও এ বছর করোনার বিধিনিষেধ না থাকায় সেতুর দুই পাড় দিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীরা পরিবার পরিজন নিয়ে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ভ্যান, রিকশা, অটো, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, মাইক্রোবাসে করে সেতুতে এসেছেন।
এখানে দাঁড়িয়েই প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধুবান্ধব ও পরিবার পরিজনদের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলছেন। আবার অনেকেই ধরলায় ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কেউ কেউ আবার ধরলার চরগুলোতেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন। বিশেষ করে গোধুলি বেলায় সূর্যের অস্ত যাওয়ার দৃশ্যটা মুগ্ধ করেছে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের।

-- বিজ্ঞাপন --

কুড়িগ্রাম সদর থেকে নাজমুল হাসান বলেন, এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পাড়ে এসেছি। ধরলা পাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক মজা করেছি। মুক্ত বাতাসে বন্ধুদের সঙ্গে গিটার বাজিয়ে গান গেয়েছি। সেই সঙ্গে ধরলায় ডিঙ্গি নৌকায় ঘুরেছি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ-আনন্দটা খুবেই ভালো হয়েছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকা থেকে মাহাবুবুর রহমান ও ওসমান গণি এসেছেন বেড়াতে। তারা জানান, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ১০ থেকে ১৫ জন বন্ধু শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পাড়ে এসেছেন। দুই বছর পর এবারের ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন। সেতুর পাড়ে একটি বিনোদন পার্ক থাকলে খুবই ভালো হতো।

শুধু মাহাবুবুর রহমান ও ওসমান গণিই নয়, অনেক দর্শনার্থী ধরলা পাড়ে একটি বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

সেতুর দুই পাড়ে ১০ থেকে ১৫টি ফুচকা, চানাচুর, আইক্রিমের দোকানের পাশাপাশি চুরি-ফিতা ও বেলুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে। সবগুলো দোকানেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ফুলবাড়ী-লালমনিরহাট ও বড়বাড়ী সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টিও হয়েছে।

এ বিষয়ে শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম সোহেল জানান, প্রতি ঈদে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পাড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন। শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর পশ্চিম পাড়ে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে একটি বিনোদন পার্কের ব্যবস্থা করলে খুবই ভালো হতো। এখানে বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

২০১৮ সালের ৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা ধরলা সেতুতে দায়িত্বে থাকা ফুলবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, করোনা না থাকায় এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে এখানে। দর্শনার্থীরা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে শন্তিপূর্ণভাবে ঈদের আনন্দ-উৎসব উপভোগ করতে পারায় আমাদেরও ভালো লাগছে।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,629FollowersFollow
583SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles