25.7 C
Rangpur City
Saturday, May 21, 2022
Royalti ad

আজ স্বাধীনতার প্রথম শহীদ রংপুরের গর্বিত সন্তান ‘শঙ্কু’র ৫১তম প্রয়াণ দিবস

-- বিজ্ঞাপন --Royalti ad

আজ ৩ মার্চ স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ শঙ্কু সমজদারের ৫১তম প্রয়াণ দিবস।
রংপুরবাসীর কাছে যা শঙ্কু দিবস হিসেবে চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ শঙ্কু সমজদার। যার রক্তে রক্তাক্ত হয়েছিল রংপুরের মাটি, জ্বলে উঠেছিল বিদ্রোহের আগুন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল মুক্তির সংগ্রাম আর শ্লোগানে। এ দিনে অবাঙালির গুলিতে নিহত হন কিশোর শঙ্কু।

এ উপলক্ষে আজ রংপুরে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

-- বিজ্ঞাপন --

একাত্তরের ৩ মার্চ পূর্বঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হওয়ায় কথা থাকলেও হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া পাকিস্তানি শাসক ১ মার্চ তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এই হঠকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় ৭০ এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া আওয়ামী লীগসহ সারা বাংলার মানুষ। ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা দেশে হরতাল ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। কারফিউ ভেঙে রংপুরেও হরতাল পালিত হয়। সেই অসহযোগ আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ১২ বছর বয়সী শঙ্কু সমজদার।

এদিকে শঙ্কুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে ক্ষোভের আগুনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুরো রংপুর। গুলিবিদ্ধ কিশোর শঙ্কুর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে জনতা উত্তেজিত হয়ে সারা শহরে অবাঙালিদের দোকান-পাট ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। যে বাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল সেই বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হলেও ইপিআর বাহিনী এসে বাধা দান করে।

-- বিজ্ঞাপন --

রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সদরুল আলম দুলু বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সারা দেশের ভূমিকার পাশাপাশি সংগ্রামী ও অবহেলিত জনপদ রংপুরের অবদান ছিল অগ্রগণ্য। স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ সূচনা হয় রংপুর, ঢাকা ও সিলেট থেকেই। স্বাধীন বাংলার প্রথম মিছিল হয়েছিল এ রংপুরেই। আর রংপুরে স্বাধীনতার প্রথম শহীদের দাবিদারও।

তিনি জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে রংপুরের শঙ্কু সমজদার। বর্তমান সরকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় শঙ্কু সমজদারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে সরকারি নির্দেশে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রংপুর জেলা প্রশাসন শঙ্কুর স্মৃতি রক্ষায় নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় তার পৈত্রিক ভিটাসংলগ্ন বেদখল হয়ে যাওয়া ১০ শতক জমি উদ্ধার করে জমির দলিলপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হন্তান্তর করেছে।

-- বিজ্ঞাপন --Bicon Icon

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, পাকিস্তানি দখলদারদের শোষণ-শাসন এবং ষড়যন্ত্রের খপ্পর থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল রংপুরের মানুষ। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ যুবক, ছাত্র, কৃষক, দিনমজুর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের জনতা কারফিউ ভাঙার জন্য রংপুর শহরের কাচারিবাজারে সমবেত হয়েছিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও তৎকালীন রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম গোলাপ, অলক সরকার, মুকুল মুস্তাফিজ, নূর উর রসুল চৌধুরী, হারেস উদ্দিন সরকার, ইলিয়াস আহমেদ, মুসলিম উদ্দিন (মুসলিম কমিশনার), আবুল মনসুর আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। সকাল ৯টায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া কৈলাশ রঞ্জন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র শঙ্কু সমজদার তার বড় ভাই কুমারেশ সমজদারের হাত ধরে গুপ্তপাড়ার বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য। মিছিলটি শহরের তেঁতুলতলা (বর্তমান শাপলা চত্বর) এলাকায় আসতেই কলেজ রোড থেকে কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি শহীদ মুখতার ইলাহি, জিয়াউল হক সেবুসহ অন্যান্যদের নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল এসে যোগ হয় মূল মিছিলের সাথে।

মিছিলটি আলমনগর অবাঙালি বিহারি ক্যাম্পের কাছে এলাকার অবাঙালি ব্যবসায়ী সরফরাজ খানের বাসার সামনে যেতেই কিশোর শঙ্কু ওই বাসার দেয়ালে উর্দুতে লেখা সাইনবোর্ড দেখে তা নামিয়ে ফেলতে ছুটে যায়। আর তখনই বাসার ছাদ থেকে মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন ভাইয়ের হাত ধরে মিছিলে আসা স্কুলছাত্র শঙ্কু সমজদার। গুলির বিকট শব্দে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মাটিয়ে লুটিয়ে পড়া গুলিবিদ্ধ কিশোর শঙ্কুকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের দিকে। কিন্তু ততক্ষণে ইতিহাস রচিত হয়ে গেছে। পথেই কিশোর শঙ্কু মারা যান।

-- বিজ্ঞাপন --

Related Articles

Stay Connected

82,917FansLike
1,666FollowersFollow
397SubscribersSubscribe
-- বিজ্ঞাপন --

Latest Articles